...
...
Next Story

Annapurna Yojana Protests: অন্নপূর্ণা-বঞ্চিতদের বিক্ষোভ রাজ্যজুড়ে! বৈঠক ফেলে উঠে আসলেন মন্ত্রী, বিরাটিতে রেললাইন অবরোধ

Annapurna Yojana Protests: শুক্রবার এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে মেদিনীপুরে গিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। জেলাশাসকের অফিসে ঢোকার আগে একদফা প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।

Published on: Aug 21, 2026, 17:41:35 IST
Advertisement

Annapurna Yojana Protests: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা মেলেনি কেন, প্রশ্নে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ-অসন্তোষ অব্যাহত। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার-ঘোষিত মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন একাংশ মহিলা। এই আবহে পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনিক ভবনে বৈঠকের মাঝে মহিলাদের বিক্ষোভের জেরে উঠে আসতে বাধ্য হলেন পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনায় রেলপথ অবরোধ করলেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়া মহিলারা।

অন্নপূর্ণা-বঞ্চিতদের বিক্ষোভ রাজ্যজুড়ে! বৈঠক ফেলে উঠে আসলেন মন্ত্রী (PTI)
অন্নপূর্ণা-বঞ্চিতদের বিক্ষোভ রাজ্যজুড়ে! বৈঠক ফেলে উঠে আসলেন মন্ত্রী (PTI)

শুক্রবার এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে মেদিনীপুরে গিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। জেলাশাসকের অফিসে ঢোকার আগে একদফা প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সেই সময় মন্ত্রীকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। তখনই পাশ থেকে একাধিক মহিলা বলে ওঠেন, 'দিদি, অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাচ্ছি না কেন? তিন মাস হয়ে গেল, পাচ্ছি না।' স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েন মন্ত্রী। সমস্যার কথা স্থানীয় বিধায়ককে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। এরপর বৈঠক চলাকালীন জেলাশাসকের দফতরের নীচতলায় ঢুকে পড়েন বিক্ষুব্ধ মহিলারা। বাধ্য হয়ে দুপুর আড়াইটেয় পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বন্ধ করে নীচে নেমে আসেন মন্ত্রী। বিক্ষোভ সামাল দিতে যান জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর গুছাইতও। মহিলাদের উদ্দেশে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘একটু সময় দিন। সবে তো ১০০ দিন হয়েছে।’ সঙ্গে সঙ্গে কোলাহাল বাড়ে। মন্ত্রী আবার বলেন, ‘আস্তে কথা বলুন। তা হলেই শুনতে পাব।’

মন্ত্রী জানান, সমাধান চান বলেই তিনি বৈঠক ছেড়ে উঠে এসেছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকার জন্য এসডিও অফিসে গিয়ে নাম, ফোন নম্বর, এনরোলমেন্ট নম্বর জমা দিতে বলেন। সেই সঙ্গে অগ্নিমিত্রা পালের সংযোজন, ‘ভেরিফিকেশনে কেন (নাম) কাটা গিয়েছে, সেটা দেখছি। জুন, জুলাইয়ে কী টাকা পেয়েছেন?’ জবাবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকার দাবি করা মহিলারা সমস্বরে বলেন, ‘এক মাসও পাইনি।’ তখন মন্ত্রী জেলাশাসককে বলেন, ‘একজন নোডাল অফিসার দিন।’ মহিলারা তাঁদের অভিযোগ জানাতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, টাকার জন্য এই অফিস-ওই অফিস ছুটতে বাধ্য করা হচ্ছে তাঁদের। এসডিও অফিস গেলে বলা হচ্ছে পুরসভায় যেতে। পুরসভায় গেলে বলা হচ্ছে এসডিও অফিসে যেতে। তখন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এসডিও এবং বিডিও অফিস যান, সেখানেই জমা দিন কাগজ। আমার মিটিং চলছে। আপনারা এসেছেন বলে আমি মিটিং ছেড়ে এখানে কথা বলতে এলাম। আপনাদের সমস্যা সমাধানের জন্যই এসেছি।’ মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে ধীরে ধীরে বিক্ষোভকারী মহিলারা জেলাশাসকের অফিস থেকে বেরিয়ে যান।

অন্নপূর্ণা-বিক্ষোভ অব্যাহত

এর পাশাপাশি, উত্তর দমদম পুরসভার সামনেও হয়েছে বিক্ষোভ। মহিলাদের অভিযোগ, যাঁদের প্রয়োজন, সব নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁরা যোজনার টাকা পাননি। অথচ, যাঁরা যোজনার টাকা পাওয়ার যোগ্য নন, তাঁদের একাংশের নাম তালিকায় রয়েছে। নির্বাচনের আগে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অনেক গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে অন্নপূর্ণার টাকা না পেয়ে হাবড়া পুরসভাতেও বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। তাঁরা কটাক্ষ করে বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনার নাম বদলে ‘ঢুকেছে কী ঢোকেনি’ রাখুন।’ মহিলাদের দাবি, ‘যোগ্য সকল উপভোক্তাকে যদি টাকা দেওয়া হয়, তা হলে সবাইকে একসঙ্গে টাকা দেওয়া হোক। আর যদি কোনও সমস্যা বা তথ্যযাচাই বাকি থাকে, তা হলে আগে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে টাকা দেওয়া হোক।’ হয়রানির পরেও টাকা না পাওয়ায় সরকারি গাফিলতিকে দায়ী করছেন তাঁরা। একই ছবি হুগলিতেও। অন্নপূর্ণার টাকা পাননি বলে চণ্ডীতলা-২ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মহিলারা।

এদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে শুক্রবার দুপুরে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসকের দফতরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলারা। মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে রাস্তাও অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। পরে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। যদিও বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি, আর কয়েক দিনের মধ্যে টাকা না পেলে ‘বৃহত্তর আন্দোলন’ করবেন তাঁরা। শুক্রবারই বাঁকুড়ার বড়জোড়া বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান বেশ কয়েক জন মহিলা। বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়কও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে জঙ্গিপুর পূরসভায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মহিলারা। তাঁদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরসভা চত্বর। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের মুখে পুরসভা ছেড়ে জঙ্গিপুর মহকুমা শাসকের দফতরের দিকে যেতে বাধ্য হন কয়েকজন কর্মীকে। বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, একাধিকবার আবেদন জমা দেওয়ার পরেও তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন না। সমস্যা জানাতে বারবার পুরসভায় এসেও কোনও সমাধান হয়নি। এদিন ক্ষোভে পুরকর্মীদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা।

অন্নপূর্ণা যোজনার বকেয়া টাকার দাবিতে শুক্রবার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এলাকার একদল মহিলা। দুপুর ১২টা নাগাদ বিডিও অফিস চত্বরে জমায়েত হয়ে তাঁরা দ্রুত প্রাপ্য টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর দাবি জানান। বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম মেনে একাধিকবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকছে না। সমস্যা সমাধানের আশায় তাঁরা বারবার বিডিও অফিসে গেলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে দাবি তাঁদের। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে ধূপগুড়িতেও জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন প্রায় দুশো মহিলা। শুধু তা-ই নয়, বিডিও অফিসে গিয়েও বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। প্রথমে ধূপগুড়ি থেকে ফালাকাটাগামী ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন মহিলারা। অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপকেরা তিন হাজার টাকা করে পাবেন। ভোটের পর তাঁদের শর্ত দেওয়া হয়েছে। তারপরেও হয়রানি। যোগ্য উপভোক্তা হয়েও কেন টাকা মিলল না, তা নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইছেন তাঁরা। অবরোধ তুলতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe