ভোটের মুখে ভরা জনসভা থেকে সাসপেনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন স্বয়ং তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নেত্রীর কথা মেনে নিয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেন ফরাক্কার ‘বিক্ষুব্ধ’ বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। সোমবার নিজেই মনিরুল ইসলাম জানান, দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে তিনি আর আলাদা করে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকছেন না। বরং ফরাক্কায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আমিরুল ইসলাম-এর হয়ে প্রচারে অংশ নেবেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, সাময়িক মতভেদ মিটে গিয়ে এখন সকলেই একসঙ্গে নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে এগোবেন।
অবস্থান বদলালেন ফরাক্কার বিদায়ী বিধায়ক

মনিরুল ইসলাম শাসক শিবিরের বিদায়ী বিধায়ক। ২০২১ সালে ফরাক্কা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন মনিরুল ইসলাম। তবে এবারের নির্বাচনে তাঁকে টিকিট না দিয়ে দল নতুন মুখ হিসেবে আমিরুল ইসলামকে প্রার্থী করে। তাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথমে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন মনিরুল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ফরাক্কা থেকে কংগ্রেস প্রার্থী মাহাতাব শেখের মনোনয়ন এসআইআর জটে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে মনিরুল ইসলাম ফরাক্কা থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। এরপরই রবিবার সামসেরগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মঞ্চ থেকেই সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, 'ফরাক্কার বিধায়ককে বলছি, শুনেছি তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। টিকিট না পেয়ে আমি তাঁকে বলছি প্রত্যাহার করে নিতে। না করলে আমি জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও সাংসদ খলিলুর রহমানকে বলছি, দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করতে।'
কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোর এই হুঁশিয়ারির পরও মনিরুল জানিয়েছিলেন, 'কারও হুমকির কাছে মাথানত করব না। বললে আমি নিজেই পদত্যাগ করব। দলে আমার তো কোনও পদ নেই, একমাত্র সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি ছাড়া। সেই পদও ছেড়ে দেব। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমি করবই। আমি তো চুরি, তোলাবাজি কিছুই তো করিনি। তাহলে কেন আমাকে দল টিকিট দিল না?' কিন্তু দলনেত্রীর সাসপেনশনের হুঁশিয়ারি তুচ্ছ করে দেওয়া যে এত সহজ নয়, বিশেষত নির্বাচনী আবহে, তা বোঝা গেল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে।
হুমায়ুন কবীরের দলে ভাঙন
{{/usCountry}}কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমোর এই হুঁশিয়ারির পরও মনিরুল জানিয়েছিলেন, 'কারও হুমকির কাছে মাথানত করব না। বললে আমি নিজেই পদত্যাগ করব। দলে আমার তো কোনও পদ নেই, একমাত্র সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সভাপতি ছাড়া। সেই পদও ছেড়ে দেব। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমি করবই। আমি তো চুরি, তোলাবাজি কিছুই তো করিনি। তাহলে কেন আমাকে দল টিকিট দিল না?' কিন্তু দলনেত্রীর সাসপেনশনের হুঁশিয়ারি তুচ্ছ করে দেওয়া যে এত সহজ নয়, বিশেষত নির্বাচনী আবহে, তা বোঝা গেল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে।
হুমায়ুন কবীরের দলে ভাঙন
{{/usCountry}}ভোটের আগেই নিজের জেলায় ফের বড় ধাক্কা খেলেন হুমায়ুন কবীর এবং তাঁর দল জনতা উন্নয়ন পার্টি। হুমায়ুনের নতুন দলে ভাঙন ধরালো শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুর্বস্থলীর সভায় তৃণমূলে যোগ দিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির পূর্ব বর্ধমানের জেলা সভাপতি পঙ্কজ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ ৩০০ কর্মী সমর্থক। তৃণমূলকে গদিচ্যুত করার হুঙ্কার দিয়ে হুমায়ুন দল ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তারপর থেকেই একের পর এক নেতা-কর্মীদের দলবদলই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ভোটের আগেই গুটি গুটি পায়ে পিছিয়ে পড়ছে তাঁর দল। কয়েকমাস আগে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, দলবিরোধী আচরণের অভিযোগ তুলে তাঁকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। তারপরই নিজের দল তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের বিধায়ক। কথা মতো দল তৈরি করেছেন তিনি। নাম আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। ইতিমধ্যেই প্রতীকও পেয়ে গিয়েছে তাঁর দল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছেন হুমায়ুন কবীর। মোট ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। ইতিমধ্যেই প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন তাঁর প্রার্থীরা। এই পরিস্থিতিতেই পূর্ব বর্ধমানে আম জনতা উন্নয়ন পার্টিতে ভাঙন। মঞ্চে দলনেত্রীর উপস্থিতিতে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, মন্ত্রী সিদ্দিকুলা চৌধুরী দলের পতাকা তুলে দেন পঙ্কজ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ ৩০০ কর্মী সমর্থকদের হাতে।