...
...
Next Story

ধর্মতলা কাণ্ডে গ্রেফতার আরও, 'ছাত্র নয়, জামাতি-মৌলবাদী', তোপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কোনও ছাত্র নন। তাঁদের একাংশকে তিনি ‘জামাতি’ ও ‘মৌলবাদী’ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, খারিজি মাদ্রাসা, ওবিসি শংসাপত্র এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে ক্ষুব্ধ কিছু দুষ্কৃতী এই অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে।

Published on: Jul 26, 2026, 14:34:20 IST
Advertisement

ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে আয়োজিত ছাত্র মিছিল ঘিরে হিংসা, সাংবাদিক নিগ্রহ এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কোনও ছাত্র নন। তাঁদের একাংশকে তিনি ‘জামাতি’ ও ‘মৌলবাদী’ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, খারিজি মাদ্রাসা, ওবিসি শংসাপত্র এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে ক্ষুব্ধ কিছু দুষ্কৃতী এই অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কোনও ছাত্র নন। (PTI)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কোনও ছাত্র নন। (PTI)

ধর্মতলায় ছাত্র মিছিল চলাকালীন হঠাৎই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, একদল সমাজবিরোধী মিছিলের মধ্যে ঢুকে পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো-সহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে শুরু করে। একইসঙ্গে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপরও হামলা চালানো হয়। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পরই আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ'টি এবং এন্টালি থানায় একটি—মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সবকটি মামলায় গুন্ডাদমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন ভিনরাজ্যে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে তার আগেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিট আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টির মিছিলের সঙ্গে এদের কোনও সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিধানসভায় যা বলেছি, তাই হবে। এরা কেউ ছাত্র নয়, এরা জামাতি, মৌলবাদী। ভারতকে অশান্ত করতে চায়। গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ইতিমধ্যেই হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে বিধানসভাতেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কড়েয়ার বাসিন্দা শাহবাজ খান, রাজাবাগানের শেখ মহম্মদ সলমান হোসেন এবং ভাঙড়ের মহম্মদ জহিরউদ্দিন মোল্লা। এর আগে ধৃত মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যখন তাঁরা ভিনরাজ্যে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

ধর্মতলার হিংসার ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের দাবি, হামলার নেপথ্যে থাকা বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কোনও বৃহত্তর সংগঠিত চক্র বা উস্কানির যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও আরও তীব্র হয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe