ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে আয়োজিত ছাত্র মিছিল ঘিরে হিংসা, সাংবাদিক নিগ্রহ এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কোনও ছাত্র নন। তাঁদের একাংশকে তিনি ‘জামাতি’ ও ‘মৌলবাদী’ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, খারিজি মাদ্রাসা, ওবিসি শংসাপত্র এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে ক্ষুব্ধ কিছু দুষ্কৃতী এই অশান্তির নেপথ্যে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মতলায় ছাত্র মিছিল চলাকালীন হঠাৎই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, একদল সমাজবিরোধী মিছিলের মধ্যে ঢুকে পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো-সহ বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে শুরু করে। একইসঙ্গে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপরও হামলা চালানো হয়। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিক আহত হন। ঘটনার পরই আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ'টি এবং এন্টালি থানায় একটি—মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সবকটি মামলায় গুন্ডাদমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন ভিনরাজ্যে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে তার আগেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিট আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টির মিছিলের সঙ্গে এদের কোনও সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিধানসভায় যা বলেছি, তাই হবে। এরা কেউ ছাত্র নয়, এরা জামাতি, মৌলবাদী। ভারতকে অশান্ত করতে চায়। গুন্ডাদমন আইনে ব্যবস্থা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে তদন্ত চলছে। অবৈধ ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে হাই কোর্টের রায় কার্যকর করা হয়েছে। পশু আইন কার্যকর হয়েছে, সাউন্ড পলিসিতেও কড়া বিধি আনা হয়েছে। এই সব কারণেই কিছু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই রাগ থেকেই অশান্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে তদন্ত চলছে। অবৈধ ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে হাই কোর্টের রায় কার্যকর করা হয়েছে। পশু আইন কার্যকর হয়েছে, সাউন্ড পলিসিতেও কড়া বিধি আনা হয়েছে। এই সব কারণেই কিছু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই রাগ থেকেই অশান্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ইতিমধ্যেই হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে বিধানসভাতেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কড়েয়ার বাসিন্দা শাহবাজ খান, রাজাবাগানের শেখ মহম্মদ সলমান হোসেন এবং ভাঙড়ের মহম্মদ জহিরউদ্দিন মোল্লা। এর আগে ধৃত মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যখন তাঁরা ভিনরাজ্যে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
ধর্মতলার হিংসার ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের দাবি, হামলার নেপথ্যে থাকা বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে কোনও বৃহত্তর সংগঠিত চক্র বা উস্কানির যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও আরও তীব্র হয়েছে।