পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে রামনবমী মিছিলে সময় হিংসার ঘটনা ঘটে গত ২৭ মার্চ। এই আবহে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে সেখানে। চার বা তার অধিক মানুষের সমাগমে জারি কার হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এর আগে পাতাকা উত্তোলন নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এদিকে রামনবমীর মিছিলে ইট পাটকেল ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। এই আবহে এলাকায় দোকানপাটেও ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি হলেও নতুন করে কোনও হিংসার ছড়ায়নি।

জানা গেছে, রামনবমী উপলক্ষে রঘুনাথগঞ্জের ম্যাকেঞ্জি মাঠ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়েছিল। যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, মিছিলটি ফুলতলা মোড়ে পৌঁছলে তাদের ওপর ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়, নিকটবর্তী একটি ছাদ থেকে মিছিলে পাথর ছোড়া হয়েছিল। এই ঘটনায় আহত হন বেশ কয়েকজন। একই সঙ্গে রঘুনাথগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় রামনবমীর মিছিলে আবারও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, মিছিলটি সিসাতলা এলাকায় পৌঁছালে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হয় দুই পক্ষের। এর জেরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তৎক্ষণাৎ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশ সেখানে রুটমার্চ করে এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানায়। এদিকে নিস্তা গ্রামেও হিংসা ছড়ায় রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে।
এদিকে তৃণমূল এবং বিজেপি উভয়পক্ষই পুলিশের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট। জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূলের মফিজুল ইসলামের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে দোকানে ভাঙচুর করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পুলিশ ব্যবহার করেনি। এদিকে বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষ অভিযোগ করেন, মিছিল বনচাল করতে পাথর ছোড়া হয় পরিকল্পিত ভাবে। তবে উলটে পুলিশ 'আমাদের কর্মীদের' লাঠিচার্জ করে। মুর্শিদাবাদের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অজিত সিং যাদব অবশ্য ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, 'পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার ও আটক করেছি। এখন চিন্তার আর কোনও কারণ নেই। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছি, তারপরে আমরা আরও তথ্য দেব।'