ওড়িশায় কাজে গিয়ে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান নদিয়ার শান্তিপুরের এক যুবক। কয়েকদিন কোনও খোঁজ না মেলার পর পরিবারের কাছে আসে হুমকি ফোন। দাবি করা হয় ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ। টাকা না দিলে ভয়ঙ্কর পরিণতির হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর আর দেরি না করে শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ হয় পরিবার। অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের তৎপরতায় পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে উদ্ধার করা হল ওই যুবককে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে। ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে যুবকের পরিবারে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম বিজয়কৃষ্ণ বালা। তিনি নদিয়ার শান্তিপুরের নৃসিংহপুর এলাকার বাসিন্দা। পেশায় স্বর্ণকারের কাজের সঙ্গে যুক্ত ওই যুবক কাজের সূত্রে ওড়িশায় গিয়েছিলেন। প্রতিবেশী রাজ্যে গিয়ে কাজ শুরু করার পরই আচমকা তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রথমে বিষয়টি নিখোঁজের ঘটনা বলেই মনে করেছিল পরিবার। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে দাবি করা হয়, বিজয়কৃষ্ণকে অপহরণ করা হয়েছে। তাঁকে মুক্ত করতে হলে দিতে হবে ৩ লক্ষ টাকা। টাকা না দিলে পরিণতি খারাপ হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ফোন পাওয়ার পরই বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারে পরিবার। কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে তাঁরা দ্রুত শান্তিপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়েই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ফোন নম্বর, মোবাইলের তথ্য এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সূত্রের সাহায্যে নিখোঁজ যুবকের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বিজয়কৃষ্ণের শেষ লোকেশন পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে। এরপর দ্রুত দাসপুর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, সেখানেই যুবককে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিজয়কৃষ্ণ বালাকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে শেখ সাহিল এবং রবিউল গাইন নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
{{/usCountry}}তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বিজয়কৃষ্ণের শেষ লোকেশন পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে। এরপর দ্রুত দাসপুর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ, সেখানেই যুবককে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিজয়কৃষ্ণ বালাকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে শেখ সাহিল এবং রবিউল গাইন নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
{{/usCountry}}তবে যুবক ওড়িশায় কাজ করতে যাওয়ার পর কীভাবে পশ্চিম মেদিনীপুরে পৌঁছলেন, সেই প্রশ্ন এখনও ঘিরে রয়েছে। তাঁকে কীভাবে ওড়িশা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল, অপহরণের পরিকল্পনা কোথায় হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় ধৃত দুই অভিযুক্ত ছাড়াও আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। মুক্তিপণের জন্য ফোন করা হয়েছিল কোথা থেকে, সেই ফোনের সঙ্গে ধৃতদের যোগসূত্র কী এবং যুবককে কতদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ধৃত শেখ সাহিল ও রবিউল গাইনকে নদিয়ার রানাঘাট বিচার বিভাগীয় আদালতে পেশ করা হয়। তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের উপর নির্ভর করবে তদন্তের পরবর্তী ধাপ।
এদিকে, নিখোঁজ যুবককে দ্রুত উদ্ধার করতে পারায় আপাতত স্বস্তিতে তাঁর পরিবার। উদ্বেগের কয়েক দিন কাটিয়ে বিজয়কৃষ্ণকে ফিরে পেয়ে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে এই অপহরণের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ এবং ঘটনায় আরও কারা জড়িত, সেই রহস্যের সমাধান করতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।