হাওড়া, সাঁতরাগাছি, বেলুড়, তারকেশ্বর, লক্ষ্মীকান্তপুর, রামপুর, বিষ্ণপুর, বালিগঞ্জ, কৃষ্ণনগর, আমঘাটা, লালগোলা থেকে অন্ডাল - পূর্ব রেলের ১৫টি সেকশনে ‘কবচ’ প্রযুক্তি বসতে চলেছে। ইতিমধ্যে সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে রেল মন্ত্রক। রেল সূত্রে খবর, পূর্ব রেলের আওতাধীন ৪৪৩ কিলোমিটার রুটে 'কবচ' (অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন) প্রযুক্তি বসানোর অনুমোদন চলে এসেছে। সেজন্য খরচ হবে ২২৩.৮৩ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে সেই মর্মে রেলওয়ে বোর্ডের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তাতে অনুমোদন দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সবথেকে বড় ব্যাপার যে রুটগুলিতে ‘কবচ’ প্রযুক্তি বসানো হচ্ছে, সেখান থেকে প্রচুর লোকাল ট্রেন যাতায়াত করে। বিশেষত লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা, কৃষ্ণনগর জংশন-আমঘাটার মতো অংশে লোকাল ট্রেন চলাচল করে মূলত। অর্থাৎ লোকাল ট্রেন আরও সুরক্ষিত হতে চলেছে।
পূর্ব রেলের কোন কোন অংশে 'কবচ' বসতে চলেছে?

১) হাওড়া-সাঁতরাগাছি।
২) লিলুয়া-বেলুড় মঠ।
৩) তারকেশ্বর-গোঘাট।
৪) ময়নাপুর-বিষ্ণুপুর।
৫) রামপুরহাট-দুমকা।
৬) আজিমগঞ্জ-মুর্শিদাবাদ।
৭) লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা।
৮) কাঁকুড়গাছি-বালিগঞ্জ।
৯) কল্যাণী-কল্যাণী সীমান্ত।
১০) কৃষ্ণনগর জংশন-আমঘাটা।
১১) কৃষ্ণনগর সিটি-লালগোলা।
১২) মুর্শিদাবাদ-আজিমগঞ্জ।
১৩) আসানসোল-বার্নপুর।
১৪) বরাচক-হীরাপুর।
১৫) বক্তারনগর-অন্ডাল।
'কবচ' প্রযুক্তি থাকলে কী সুবিধা হবে?
কবচ হল ভারতের দেশীয় প্রযুক্তি। যা অত্যন্ত প্রযুক্তি-নির্ভর অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন সিস্টেম। ওই সিস্টেমের ফলে ট্রেন চলাচল অনেক বেশি সুরক্ষিত হয়ে যাবে। চালকদের ট্রেন চালানোর সময় পরামর্শ দেয়। যদি সেই শর্ত মেনে না চলেন লোকো পাইলট, তাহলে নিজে থেকেই ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেয়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কার্যত থাকে না। সেজন্য ভারতের বিভিন্ন রুটে কবচ প্রযুক্তি বসানোর কাজ চলছে।
হাওড়া-নয়াদিল্লি রুটেও চলছে কবচ বসানোর কাজ
যেমন নয়াদিল্লি-হাওড়া এবং নয়াদিল্লি-মুম্বই রুটে কবচ প্রযুক্তি বসানোর কাজ চলছে। ২০২৪ সালের ৭ অগস্ট রেল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল যে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যেই নয়াদিল্লি-হাওড়া এবং নয়াদিল্লি-মুম্বই রুটে কবচ প্রযুক্তি বসানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে বাজেটের নথিতে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেই ডেডলাইন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই সময়সীমাও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে এখন নয়া সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে সেই কাজটা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।