রাজ্যের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে ভোট। তবে দুই কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর নন্দীগ্রামের দিকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে আসা এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে এবার বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সেই তালিকায় হঠাৎ করেই উঠে এসেছে হাসি রথের নাম। তিনি শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা।
হাসি রথকে ঘিরে জল্পনা

বিজেপির অন্দরের জল্পনা, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে চন্দ্রনাথ রথের মাকে প্রার্থী করা হতে পারে। যদিও এখনও দলীয় ভাবে কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এই জল্পনা কতটা বাস্তব, তা নিয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।
তবে হাসি রথ নিজে জানিয়েছেন, দল যদি তাঁকে কোনও বড় দায়িত্ব দেয়, তা হলে তিনি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের পরিবারের অভিভাবকের মতো। তিনি কোনও দায়িত্ব দিলে তা মাথা পেতে নেবেন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
হাসি রথের দাবি, তিনি ১৯৯৮ সাল থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দু’বার পঞ্চায়েত সদস্য এবং তিনবার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন। ফলে রাজনীতির মাঠে তাঁর অভিজ্ঞতা একেবারে নতুন নয়।
তাঁর কথায়, এবারও যদি গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়, তা হলে নিজের সাধ্যমতো সেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করবেন। ফলে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাতে তাঁর নিজের বক্তব্যও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সৌমেন্দুর মন্তব্যে বাড়ল জল্পনা
হাসি রথের নাম নিয়ে জল্পনার মধ্যে মুখ খুলেছেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, প্রার্থী নিয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর দাবি, উপনির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করে দলের উচ্চ নেতৃত্ব। যে কোনও মুহূর্তে নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
{{/usCountry}}হাসি রথের নাম নিয়ে জল্পনার মধ্যে মুখ খুলেছেন কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, প্রার্থী নিয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর দাবি, উপনির্বাচনের প্রার্থী ঠিক করে দলের উচ্চ নেতৃত্ব। যে কোনও মুহূর্তে নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
{{/usCountry}}তবে প্রার্থী যেই হন না কেন, বিজেপির জয়ের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। সৌমেন্দু বলেন, নন্দীগ্রামে বিজেপি বিপুল ব্যবধানে জিতবে। এমনকী আগের জয়ের ব্যবধানকেও ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মমতাকে নন্দীগ্রামে চ্যালেঞ্জ
এদিকে নন্দীগ্রামকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরেও শুরু হয়েছে জল্পনা। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে লড়তে পারেন বলে আলোচনা ছড়িয়েছে। যদিও মমতা নিজে এখনও এই বিষয়ে কোনও ঘোষণা করেননি।
অন্যদিকে, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মদন মিত্ররা জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়লে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না। ফলে নন্দীগ্রামের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।
এই আবহেই মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সৌমেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ফের নন্দীগ্রামে এলে মমতার হারের হ্যাটট্রিক হবে। একই সঙ্গে বিজেপি এক লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানান তিনি।
ভোটের আগে জমজমাট নন্দীগ্রাম
৬ অক্টোবরের উপনির্বাচন ঘিরে তাই ভোটের অনেক আগেই উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। একদিকে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে হাসি রথের নাম, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে জল্পনা। তার সঙ্গে সৌমেন্দু অধিকারীর তীব্র চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই নন্দীগ্রাম ফের রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।