পাঁচ মাসেই বদলে গেল নন্দীগ্রামের ভোট-ছবি। ২০২১-এর সেই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র এ বার অনেকটাই অন্য রকম। তৃণমূলের প্রার্থী নেই, সরাসরি লড়াইয়ে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর সেই ফাঁকা মাঠে বিজেপির বিরুদ্ধে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে মরিয়া কংগ্রেস। ভোটের দিন মঙ্গলবার বুথে বুথে ঘুরে সেই লড়াইয়ের বার্তাই দিতে দেখা গেল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। তবে দিন গড়াতেই একের পর এক অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম।

সকালে স্ত্রী অর্পিতা প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দামারির একটি বুথে ভোট দেন মিলন। ভোট দিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। একের পর এক বুথে পৌঁছে ভোটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে থাকেন। সোনাচূড়ার জলপাই এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় কয়েক জন ভোটার তাঁকে ঘিরে ধরেন বলে কংগ্রেসের দাবি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এর পরেই আরও একাধিক অভিযোগ সামনে আনে কংগ্রেস। দলের দাবি, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি শেখ আসরাফুল তুল্লাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ভোট চলাকালীন তাঁকে অপ্রয়োজনীয় ভাবে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ দলের। কংগ্রেসের বক্তব্য, এলাকায় গণতান্ত্রিক পরিবেশই নেই। ঘটনার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে দল।
শ্যামসুন্দরী চক, কেন্দ্রেমারি অঞ্চলের ২৩২ নম্বর বুথ নিয়েও অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, কিছু অসামাজিক ব্যক্তি ভোটারদের বুথের ভিতরে ঢুকে ভোট দিতে বাধা দিচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
২৮২ নম্বর বুথ, দক্ষিণ কেন্দ্রেমারি নিয়েও একই অভিযোগ। কংগ্রেসের দাবি, কিছু অসামাজিক ব্যক্তি বুথ দখল করে বেছে বেছে ভোটারদের ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে বুথ চলে যাওয়ায় ভোটাররা স্বাধীন ভাবে ভোট দিতে পারছেন না বলেও অভিযোগ। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দল।
{{/usCountry}}২৮২ নম্বর বুথ, দক্ষিণ কেন্দ্রেমারি নিয়েও একই অভিযোগ। কংগ্রেসের দাবি, কিছু অসামাজিক ব্যক্তি বুথ দখল করে বেছে বেছে ভোটারদের ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে বুথ চলে যাওয়ায় ভোটাররা স্বাধীন ভাবে ভোট দিতে পারছেন না বলেও অভিযোগ। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দল।
{{/usCountry}}এখানেই শেষ নয়। কেন্দামারির ২২৪ নম্বর জীবনকৃষ্ণ প্রাইমারি স্কুল বুথে ইভিএম বিভ্রাটের অভিযোগ উঠেছে। ২১২ নম্বর বুথে বাম এজেন্টকে মারধরের অভিযোগও সামনে এসেছে। আহত ওই এজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি বলে দাবি বামেদের। আবার ভেকুটিয়া অঞ্চলের ভীমকাটা ২৮ নম্বর বুথে বিজেপি কাউকে ভোট দিতে দিচ্ছে না, ভয় দেখিয়ে ভোটারদের বাধা দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বামেরা।
অন্য দিকে, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। ফলে ভোটের শুরু থেকেই দুই মেরুর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এই উপনির্বাচনে অবশ্য সরাসরি লড়াইয়ের সমীকরণও বদলে গিয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ঘাসফুল কার্যত ভোট-লড়াইয়ের বাইরে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী এহতেশামুল হক থাকলেও তাঁর উপস্থিতি কার্যত নামমাত্র বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। বামেদের প্রার্থী সিপিআই-এর শান্তি গিরি।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সামনে তাই বড় প্রশ্ন—বিজেপির বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসাবে নিজেদের জায়গা কতটা উদ্ধার করা যায়। বিজেপির লক্ষ্যও শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয়। শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে সামনে রেখে সেই ব্যবধানের অঙ্কও কষছে দল। লক্ষ্য ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধান বলে জানা যাচ্ছে।
ভোটের আগে পুরনো মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন মিলন প্রধান। পরে আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়ে ফের প্রচারে ফিরেছেন তিনি। এখন ভোটের শেষ হিসাবই জানাবে, ২০২১-এর নন্দীগ্রামের তীব্র রাজনৈতিক স্মৃতির মাঝে কংগ্রেস কতটা জমি উদ্ধার করতে পারল।