...
...
Next Story

রাজ্য সরকারের জমিতে হোটেল মালতী বিবির, শালবনীতে সুমিতের জমি কেলেঙ্কারি কাণ্ডে নয়া মোড়

সিআইডির তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই সুমিত রায়ের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে। অভিযোগ, কয়েক দিন আগে ভোরে তাঁর খোঁজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও পৌঁছেছিল পুলিশ। কিন্তু সেখানে সুমিতকে পাওয়া যায়নি। তারপর থেকেই তিনি কার্যত বেপাত্তা।

Published on: Aug 6, 2026, 10:42:37 IST
Advertisement

শালবনীর বহুচর্চিত জমি-কেলেঙ্কারি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এই মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। তদন্তে উঠে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহায়ক সুমিত রায়ের নামও। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও এখনও তাঁর খোঁজ মেলেনি। এরই মধ্যে মুখ খুলেছেন মামলার মূল অভিযোগকারী শেখ ইমরান। তিনি দাবি করেছেন, জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য অতীতে তাঁর উপর প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি একাধিক নথি প্রকাশ করে তিনি গোটা দুর্নীতির চিত্রও তুলে ধরেছেন।

ইডি দফতরে সুমিত রায়। (ফাইল ছবি)
ইডি দফতরে সুমিত রায়। (ফাইল ছবি)

সম্প্রতি এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছে সিআইডি। তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই সুমিত রায়ের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে। অভিযোগ, কয়েক দিন আগে ভোরে তাঁর খোঁজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও পৌঁছেছিল পুলিশ। কিন্তু সেখানে সুমিতকে পাওয়া যায়নি। তারপর থেকেই তিনি কার্যত বেপাত্তা।

এই পরিস্থিতিতেই সামনে এসেছেন অভিযোগকারী শেখ ইমরান। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য তাঁকে বারবার চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। বরং এখন তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক নথি প্রকাশ্যে এনে জমি জালিয়াতির অভিযোগকে আরও জোরালো করেছেন।

শেখ ইমরানের প্রকাশ করা নথি অনুযায়ী, শালবনীর যজ্ঞেশ্বরপুর মৌজার একটি জমি প্রথমে সুজয় হাজরা-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন খানের নামে ছিল। পরে প্রশাসনিক নথিতে ওই জমিকে খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ জমির মালিকানা চলে যায় রাজ্য সরকারের হাতে। কিন্তু অভিযোগ, সরকারি জমি হওয়া সত্ত্বেও সেখানে গড়ে ওঠে একটি পেট্রোল পাম্প এবং একটি হোটেল। আরও বিস্ময়ের বিষয়, সরকারি রেকর্ডে জমির মালিক রাজ্য সরকার হলেও ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে শরফুদ্দিন খানের স্ত্রী মালতী বিবির নামে।

তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় শুধু সুজয় হাজরা বা সুমিত রায় নন, শরফুদ্দিন খান, কৈলাস আগরওয়াল, নিত্য রায়-সহ আরও কয়েক জনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন এখনও অধরা। সিআইডি সূত্রে খবর, পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলছে।

প্রসঙ্গত, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সম্প্রতি অভিযোগকারী শেখ ইমরান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এরপরই মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়। তদন্তকারী সংস্থা এখন জমির মালিকানা, নথি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe