বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের নলহাটি থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। প্রায় সাত মাস পর সেই ঘটনার তদন্তে প্রথম গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। তদন্তকারীদের হাতে ধরা পড়েছেন ট্রাক্টর মালিক রফিউল শেখ ওরফে ‘কালো আঙুর’।

ঘটনার সূত্রপাত গত মার্চে। নলহাটি থানার বাউটিয়া পঞ্চায়েতের কাঁদাসির এলাকায় একটি ট্রাক্টর দেখে সন্দেহ হয়েছিল স্থানীয়দের। ট্রাক্টরটি দাঁড় করিয়ে তল্লাশি শুরু করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তাঁদের। কাগজের বাক্সের ভিতরে সাজানো ছিল বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক।
এর পরেই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নলহাটি থানার পুলিশ। ট্রাক্টরটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। উদ্ধার করা হয় প্রায় ১০ হাজার জিলেটিন স্টিক এবং ৩৬০টি ডিটোনেটর। এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন ওঠে।
তবে পুলিশ পৌঁছনোর আগেই পালিয়ে যায় ট্রাক্টরের চালক। ফলে শুরুতেই তদন্তকারীদের সামনে বড় বাধা তৈরি হয়। কে এই বিস্ফোরক আনল? কোথা থেকে এল? কোথায় পাচার হচ্ছিল? এর পিছনে আরও কারা রয়েছে? একের পর এক প্রশ্ন সামনে আসে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল ভোটের আগে এই বিপুল বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল। কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় তীব্র চাপানউতোর।
পুলিশের তদন্ত এগোতে থাকে। পরে এই বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার তদন্তভার নেয় এনআইএ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজতে শুরু করে। ট্রাক্টরের মালিক থেকে সম্ভাব্য পাচারচক্র—সব দিক খতিয়ে দেখা হয়।
{{/usCountry}}পুলিশের তদন্ত এগোতে থাকে। পরে এই বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনার তদন্তভার নেয় এনআইএ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজতে শুরু করে। ট্রাক্টরের মালিক থেকে সম্ভাব্য পাচারচক্র—সব দিক খতিয়ে দেখা হয়।
{{/usCountry}}এনআইএ সূত্রে দাবি, দীর্ঘ তদন্তের পর রফিউল শেখের ভূমিকা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য হাতে আসে। তার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও বিস্ফোরকগুলি কোথা থেকে এসেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় যাওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।
‘কালো আঙুর’ নামে পরিচিত রফিউল শেখের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁর সঙ্গে বিস্ফোরক পাচারের কোনও বড় চক্রের যোগাযোগ ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, ওই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক বা নাশকতামূলক পরিকল্পনার যোগ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সাত মাস পর এই প্রথম গ্রেফতারির ঘটনায় নলহাটির বিস্ফোরক-কাণ্ড ফের আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, এত বিপুল পরিমাণ জিলেটিন স্টিক এবং ডিটোনেটর কী ভাবে একটি ট্রাক্টরে করে এলাকায় পৌঁছল, সেই প্রশ্নের এখনও পুরো উত্তর মেলেনি।
তদন্তকারীদের আশা, রফিউল শেখকে জেরা করে সেই অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে। বিস্ফোরকের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আরও গ্রেফতারি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর। একই সঙ্গে তদন্তে পরিষ্কার হবে, ভোটের আগে উদ্ধার হওয়া ওই বিপুল বিস্ফোরক শুধুই পাচারের জন্য ছিল, নাকি এর পিছনে ছিল আরও বড় কোনও পরিকল্পনা।