পূর্ব মেদিনীপুরে তমলুক-ঘাটাল কার্ড ব্যাঙ্ক নির্বাচনের দিন ঘটে যাওয়া বোমাবাজির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শামসুল ইসলামকে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে নন্দীগ্রামের কাঞ্চননগর দিদারউদ্দিন হাই স্কুলের সামনে। অভিযোগ, নির্বাচনের দিন সেখানে ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। পরপর বিস্ফোরণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী আহত হন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তীতে তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দাউদপুরের বাসিন্দা শামসুল ইসলামকে দীর্ঘদিন ধরে খোঁজা হচ্ছিল। তবে এতদিন তাঁর নাগাল পাওয়া যায়নি। অবশেষে গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। শুক্রবার তাঁকে হলদিয়া আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সেই কারণেই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করার আবেদন জানানো হতে পারে।
এনআইএ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই মামলায় এখনও কয়েকজন সন্দেহভাজনের খোঁজ চলছে। ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল, কীভাবে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং বিস্ফোরকের উৎস কোথায়— সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। যদিও তদন্তকারী সংস্থা এখনও পর্যন্ত এই মামলার বাইরে অন্য কোনও অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। বর্তমানে এনআইএ-র তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং আদালতে শামসুল ইসলামের পেশের দিকে নজর রয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে মামলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।