বাংলায় রাজনৈতিক লড়াইয়ের উত্তাপ আরও বাড়াল বিজেপি। কলকাতায় দলের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বিহারের ভাগলপুর থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন, ভোটে জিতলে গণতন্ত্রের জয় বলে দাবি করা হয়, আর হারলেই গণতন্ত্র বিপন্ন বলে অভিযোগ তোলা হয় কেন? বিশেষ করে বাংলায় নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধীদের এই অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর নিশানায় ছিলেন রাহুলের পাশাপাশি মমতাও।

নিতিন নবীনের বক্তব্য, বিরোধী নেতারা নির্বাচনে জিতলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। কিন্তু পরাজিত হলেই ভোটের ফল এবং নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনারা যখন জেতেন, তখন বলেন লোকতন্ত্রের জয় হয়েছে। আর যখন হেরে যান, তখন বলেন লোকতন্ত্র বিপন্ন।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের এই দ্বিচারিতা সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
এর পরেই স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর যুক্তি, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর তামিলনাড়ু এবং কেরলেও নির্বাচন হয়েছে। সেখানে বিরোধীরা জয় পেয়েছে। কিন্তু সেই সময় গণতন্ত্র বিপন্ন বলে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। অথচ বাংলায় নির্বাচনে পরাজয়ের পরই ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। নিতিনের দাবি, বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে গণতন্ত্রের প্রশ্নকে ব্যবহার করছেন।
রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে আরও এক ধাপ এগিয়ে যান তিনি। নিতিনের কথায়, বাংলায় তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করার পর এখন আবার তাঁদের সঙ্গেই হাত মিলিয়ে গণতন্ত্র বিপন্ন বলে সরব হচ্ছেন রাহুল। তাঁর কটাক্ষ, গণতন্ত্র বিপন্ন নয়, বরং বিরোধী দলের আসন ধরে রাখাই বিরোধী নেতাদের কাছে কঠিন হয়ে উঠছে। আগামী দিনে বিরোধী দলের আসনে থাকার যোগ্যতাও তাঁরা হারাতে পারেন বলে মন্তব্য করেন বিজেপি সভাপতি।
শুধু রাহুল নন, বিরোধী জোটের অন্য নেতাদেরও আক্রমণ করেন নিতিন। তাঁর বক্তব্য, বিহারের তেজস্বী যাদব, উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদব কিংবা বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রত্যেকেরই লক্ষ্য ক্ষমতা দখল। গণতন্ত্র এবং সংবিধান রক্ষার কথা বললেও বিরোধী নেতাদের আসল উদ্দেশ্য ক্ষমতায় ফেরা বলেই অভিযোগ করেন তিনি।
{{/usCountry}}শুধু রাহুল নন, বিরোধী জোটের অন্য নেতাদেরও আক্রমণ করেন নিতিন। তাঁর বক্তব্য, বিহারের তেজস্বী যাদব, উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদব কিংবা বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রত্যেকেরই লক্ষ্য ক্ষমতা দখল। গণতন্ত্র এবং সংবিধান রক্ষার কথা বললেও বিরোধী নেতাদের আসল উদ্দেশ্য ক্ষমতায় ফেরা বলেই অভিযোগ করেন তিনি।
{{/usCountry}}এখানেই নিজের দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ তোলেন নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির কাছে গণতন্ত্র রক্ষা করাই প্রথম কর্তব্য। দেশের সংবিধান এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় তাঁর দল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের উপর যদি দেশের মানুষের আস্থা থাকে, তা হলে বিরোধীরা কেন সেই আস্থা অর্জন করতে পারছেন না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার কলকাতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি রয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলার এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পদযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিকেল ৩টেয় শুরু হওয়ার কথা এই কর্মসূচির। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ দলের একাধিক প্রথম সারির নেতা উপস্থিত থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
প্রসঙ্গত, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া-র বড় সমাবেশ হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। রাহুল গান্ধীও নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। বিরোধীদের সেই আন্দোলনের পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসাবেই বিজেপির এই পদযাত্রাকে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কলকাতার পদযাত্রার আগে নিতিন নবীনের এই আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও উসকে দিল। একদিকে রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগ, অন্যদিকে বিরোধীদের গণতন্ত্র নিয়ে অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে বিজেপি। নির্বাচনের পর বাংলার রাজনীতিতে এই চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।