...
...
Next Story

টাকা মিলছে না, ‘অর্থাভাবে’ বিপাকে মমতা তৃণমূল, জরুরি শুনানিও খারিজ হাই কোর্টে

কর্মীদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া, দলের দৈনন্দিন খরচ সবই আটকে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চেয়ে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করেছিল মমতা তৃণমূল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ছুটির পরে নিয়ম মেনেই মামলাটির শুনানি হবে।

Published on: Oct 5, 2026, 14:18:20 IST
Advertisement

দুর্গাপুজোর মুখে আর্থিক টানাটানিতে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। আদালতের নির্দেশে ব্যবহার করা গেলেও দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজনমতো টাকা মিলছে না বলে অভিযোগ কালীঘাট তৃণমূলের। আদালত নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার সুব্রত তালুকদারের কমিটির কাছে টাকা চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি বলে দাবি। এর জেরে কর্মীদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া, দলের দৈনন্দিন খরচ সবই আটকে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চেয়ে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন করেছিল মমতা তৃণমূল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ছুটির পরে নিয়ম মেনেই মামলাটির শুনানি হবে।

টাকা তুলতে পারলেও নিয়ন্ত্রণ স্পেশাল অফিসারের

কর্মীদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া, দলের দৈনন্দিন খরচ সবই আটকে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। (RAJ K RAJ /HT PHOTO)
কর্মীদের বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া, দলের দৈনন্দিন খরচ সবই আটকে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। (RAJ K RAJ /HT PHOTO)

ঘটনার সূত্রপাত দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া নিয়ে। অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে পুলিশ ওই অ্যাকাউন্টগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এর বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।

মামলাটি শুনে কলকাতা হাই কোর্ট আগে শর্তসাপেক্ষে ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন খরচ চালানোর অনুমতি দিয়েছিল। তবে দলকে সরাসরি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি। আদালত একজন বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করে জানিয়ে দেয়, তাঁর তত্ত্বাবধানেই টাকা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হবে। যথেচ্ছ ভাবে টাকা তোলা যাবে না, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছিল আদালত।

‘টাকা না পেয়ে’ কর্মীদের বেতনও অনিশ্চিত

এ বার সেই ব্যবস্থাই মমতা তৃণমূলের কাছে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি। দলের আইনজীবীর বক্তব্য, বিশেষ আধিকারিকের কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় খরচের জন্য আবেদন করেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পুজোর আগে কর্মীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে দলীয় দফতরের বাড়ি ভাড়া এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচও মেটানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।

তবে হাই কোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত জরুরি শুনানির প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত সময়েই মামলাটি শুনানি হবে। অর্থাৎ, আপাতত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে এবং বিশেষ আধিকারিকের নিয়ন্ত্রণেই অ্যাকাউন্টের টাকা খরচ করতে হবে।

এই অবস্থায় মমতা তৃণমূলের সামনে কার্যত নতুন করে আর্থিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। কারণ অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেও তা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবহার করার সুযোগ নেই বলে দলের অভিযোগ।

নাম-প্রতীক বিতর্কের মধ্যেই আর্থিক চাপ

এমনিতেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘাত এখন তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়া ফুল প্রতীক ব্যবহার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সামনে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচন। তার আগে নাম-প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার দলের তহবিল ব্যবহার নিয়েও অস্বস্তি বাড়ল।

বিশেষ আধিকারিকের কাছে মমতা তৃণমূলের আরও একটি প্রশ্ন রয়েছে। উপনির্বাচনের জন্য দলীয় নাম এবং প্রতীক ব্যবহারে কমিশনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট করে জানতে চেয়েছেন তিনি। কারণ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা খরচের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে।

আগের নির্দেশেই এখন ভরসা

উল্লেখ্য, এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়েছিল, মমতা তৃণমূল নির্দিষ্ট শর্ত মেনে তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে। এই অনুমতি আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। তবে টাকা খরচের ক্ষেত্রে আদালতের নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিকের নজরদারি থাকবে।

অর্থাৎ আদালত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। কিন্তু টাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত দলের হাতে নেই। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে বর্তমান সঙ্কট।

পুজোর আগে কর্মীদের বেতন, দফতরের খরচ এবং সাংগঠনিক কাজ চালানো নিয়ে এখন কতটা চাপের মুখে পড়ে মমতা তৃণমূল, সেটাই দেখার। জরুরি শুনানির দরজা আপাতত বন্ধ। ফলে ছুটির পরে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে কালীঘাট তৃণমূলকে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks