...
...
Next Story

SIR চলা রাজ্যেও ফর্ম ৬ জমা দিতে আর বাধা নয়! ডিক্লারেশন নিয়ে সিদ্ধান্ত বদল নির্বাচন কমিশনের

ফর্ম ৬ এবং SIR-এর ডিক্লারেশন আলাদা ভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করল কমিশন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ SIR চলা রাজ্যগুলির ভোটারদের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই নিয়ম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি উঠেছিল।

Published on: Nov 5, 2026, 13:26:11 IST
Advertisement

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে ফের বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে যে সমস্ত রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া চলছে, সেখানেও নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে SIR সংক্রান্ত ডিক্লারেশন জুড়ে জমা দিতে হবে না। অর্থাৎ, ফর্ম ৬ এবং SIR-এর ডিক্লারেশন আলাদা ভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করল কমিশন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ SIR চলা রাজ্যগুলির ভোটারদের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই নিয়ম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি উঠেছিল। দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী প্রথম থেকেই ফর্ম ৬-এর সঙ্গে অতিরিক্ত ডিক্লারেশন যুক্ত করার বিরোধিতা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত বদল করল কমিশন।

কী ছিল পুরনো নিয়ম?

ফর্ম ৬ এবং SIR-এর ডিক্লারেশন আলাদা ভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করল কমিশন
ফর্ম ৬ এবং SIR-এর ডিক্লারেশন আলাদা ভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করল কমিশন

ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তুলতে গেলে ফর্ম ৬ পূরণ করতে হয়। কিন্তু SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এই ফর্মের সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ডিক্লারেশন যুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হত, আগের SIR-এর ভোটার তালিকায় তাঁর নিজের নাম ছিল কি না। নিজের নাম না থাকলে বাবা, মা, দাদু অথবা দিদার নাম ছিল কি না, তা জানাতে হত। পরিবারের কারও নাম না থাকলেও সেই তথ্য জানাতে হত আবেদনকারীকে।

অনলাইনে ফর্ম ৬-এর জে এবং কে বিভাগের মাঝখানে এই সংক্রান্ত প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। ডিক্লারেশন জমা না দিলে আবেদন প্রক্রিয়া এগোনোর সুযোগ ছিল না। ফলে নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।

দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি

এই ব্যবস্থা নিয়েই আপত্তি তুলেছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ফর্ম ৬ একটি নির্দিষ্ট আইন মেনে তৈরি। ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী এই ফর্মে পরিবর্তন আনার অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। কেন্দ্রীয় সরকারই আইন মেনে সেই পরিবর্তন করতে পারে। অথচ আইন সংশোধন না করেই ফর্মে অতিরিক্ত প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে বলে আপত্তি ওঠে।

নতুন ব্যবস্থায় অনলাইনে ফর্ম ৬ এবং SIR ডিক্লারেশন দুটি পৃথক নথি হিসেবে জমা দিতে হবে। আগে একই সঙ্গে দুটি নথি জমা দেওয়ার জন্য একটি ওটিপি এবং একটি ই-সইয়ের ব্যবস্থা ছিল। এবার দুটি নথির জন্য আলাদা ওটিপি যাচাই এবং ই-সই করতে হবে। অর্থাৎ, আবেদনকারীদের দুটি ধাপই সম্পূর্ণ করতে হবে। তবে মূল ফর্ম ৬-এর মধ্যে SIR সংক্রান্ত অতিরিক্ত প্রশ্ন আর থাকছে না। কমিশনের নাগরিক পরিষেবা পোর্টালেও দুটি আলাদা বিকল্প রাখা হয়েছে।

আগে নাম ছিল, এখন বাদ পড়লেও আবেদন করা যাবে

এ দিকে, SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরাও নতুন করে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারবেন বলে জানিয়েছে কমিশন। আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও খসড়া তালিকায় নাম না থাকায় অনেকেই নতুন করে আবেদন করতে ভয় পাচ্ছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, প্রথম বার ভোটার তালিকায় নাম তোলার ঘোষণা দিলে তা ভুল তথ্য হিসেবে গণ্য হতে পারে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, আগের তালিকায় নাম থাকলেও খসড়া তালিকায় নাম না থাকলে নিয়ম মেনে নতুন করে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে।

সব মিলিয়ে, SIR চলাকালীন ফর্ম ৬ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে আপাতত অবস্থান বদল করল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যখন রাজনৈতিক চাপানউতর চলছে, তখন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ফর্ম ৬ এবং SIR ডিক্লারেশন আলাদা ভাবে জমা দেওয়ার বিষয়টি ভোটারদের মাথায় রাখতে হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks