পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত গুন্ডাদমন বিলে আপাতত রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মিলল না। কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে বিলটির একটি ধারার সংঘাত তৈরি হতে পারে, এই কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সেটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্যের কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চাপানউতোর।

চলতি বছরের জুনে বিধানসভায় পাশ হয়েছিল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছিল। বিলের বিভিন্ন ধারায় সমাজবিরোধী হিসাবে চিহ্নিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাউকে কোনও এলাকা, জেলা বা জেলার একাংশের বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
রাষ্ট্রপতির কাছে বিল পাঠানোর পর মূল আপত্তি উঠেছে মাদক সংক্রান্ত একটি ধারাকে ঘিরে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, বিলের ২(ডি)(iii)(B) ধারায় এনডিপিএস আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধকে গুন্ডার সংজ্ঞার মধ্যে রাখা হয়েছে। কিন্তু মাদক সংক্রান্ত অপরাধে আগাম আটক নিয়ে কেন্দ্রের ১৯৮৮ সালের পিআইটি এনডিপিএস আইন আগে থেকেই রয়েছে। ফলে রাজ্যের প্রস্তাবিত আইনে একই বিষয়ে আলাদা একটি ব্যবস্থা তৈরি হলে দুই আইনের মধ্যে সংঘাত হতে পারে বলে কেন্দ্রের বক্তব্য।
এই কারণেই ওই ধারাটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, একই ধরনের preventive detention বা আগাম আটক ব্যবস্থা দুটি আইনে থাকলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই ধরনের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও কেন্দ্র জানিয়েছে।
{{/usCountry}}এই কারণেই ওই ধারাটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, একই ধরনের preventive detention বা আগাম আটক ব্যবস্থা দুটি আইনে থাকলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই ধরনের সংঘাতের প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও কেন্দ্র জানিয়েছে।
{{/usCountry}}তবে রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরত পাঠালেও এখানেই পুরো প্রক্রিয়া থেমে যাচ্ছে না। রাজ্য সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিবর্তন এনে বিলটি ফের বিধানসভায় পেশ করতে পারে। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর সেটি আবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সুযোগ রয়েছে বলে রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন।
এই বিল নিয়ে আগেও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অগস্টে কলকাতা হাইকোর্টে বিলটির বৈধতা নিয়ে একাধিক মামলা হয়। তখন আদালত জানায়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সেটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। ফলে ওই পর্যায়ে বিলকে চ্যালেঞ্জ করা মামলা গ্রহণের মতো অবস্থায় নেই। পরে অনুমোদন ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে আইনটির বৈধতা নিয়ে আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও জানানো হয়েছিল।
রাজ্য সরকার দ্রুত এই আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছিল। অন্য দিকে বিরোধীরা বিলের কিছু কঠোর ধারার অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য জানিয়েছিলেন, আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর অপব্যবহার হবে না।
রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর তৃণমূলের তরফে সরকারের সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, সরকারের কাজের ক্ষেত্রে ‘ডবল ইঞ্জিন’ নয়, বরং ‘রিভার্স গিয়ার’ চলছে। বিলটি সংশোধনের জন্য ফেরত যাওয়াকে কেন্দ্র করে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
এখন নজর রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে। বিলের বিতর্কিত অংশে সংশোধন করা হবে কি না এবং হলে কবে তা বিধানসভায় ফের তোলা হবে, সেই প্রশ্নই সামনে। কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত মিটিয়ে প্রস্তাবিত গুন্ডাদমন আইনকে কী ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তার উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।