রাতভর টানা বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। পাহাড় থেকে সমতল—বৃষ্টির জেরে একাধিক এলাকায় নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফুঁসছে বালাসন নদী। আর সেই নদীর জলের তোড়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। এর জেরে শিলিগুড়ির সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল মিরিকের।
ছোট গাড়ি চললেও বন্ধ বড় গাড়ি

দুধিয়ার সেতু ভেসে যাওয়ার পর আপাতত বিকল্প হিসেবে বেইলি ব্রিজ দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করছে। তবে বড় গাড়ির যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পণ্য পরিবহণ থেকে শুরু করে যাত্রী চলাচল—সব ক্ষেত্রেই নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের তরফে নজরদারি শুরু হয়েছে। কিন্তু নদীর জলস্তর আরও বাড়লে বেইলি ব্রিজের উপরেও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা। তার সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় ধসের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে মিরিকগামী পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের একই ঘটনা
দুধিয়ার এই সেতু ভেসে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। গত জুলাইয়েও টানা বৃষ্টি ও নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় একই ভাবে অস্থায়ী সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সময় মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ার পর বালাসন নদীতে জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায় বলে জানা গিয়েছিল। জলের প্রবল স্রোতে ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু।
তার জেরে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু হয়। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সেনার উদ্যোগে বেইলি ব্রিজও তৈরি করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছিল। কিন্তু দেড় মাসের মধ্যেই ফের সেই একই ছবি।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি
{{/usCountry}}তার জেরে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু হয়। দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সেনার উদ্যোগে বেইলি ব্রিজও তৈরি করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছিল। কিন্তু দেড় মাসের মধ্যেই ফের সেই একই ছবি।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি
{{/usCountry}}স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। রাতভর বৃষ্টিতে বালাসন নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকে। এক সময় জলের স্রোত এতটাই বেড়ে যায় যে দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু আর তা সামলাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সেতুটি ফের জলের তোড়ে ভেসে যায়।
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে অস্থায়ী সেতুর স্থায়িত্ব এবং বর্ষার সময় পাহাড়ি নদীগুলির জল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে। কারণ, সামান্য সময়ের মধ্যেই একই জায়গায় বারবার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়ছে।
পর্যটনেও ধাক্কার আশঙ্কা
মিরিক উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষার মরসুমেও বহু পর্যটক পাহাড়ি এলাকায় যান। কিন্তু সড়ক যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তাঁদেরও বিপাকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বড় গাড়ি বন্ধ থাকায় পর্যটকদের যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে।
ধসের আশঙ্কাও বাড়ছে
সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় যে কোনও সময় রাস্তার উপর ধস নামতে পারে। ফলে মিরিক এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বর্ষাতেই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে একই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন। দুধিয়ায় বারবার সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে, বর্ষার প্রবল স্রোত সামলানোর মতো পরিকাঠামো দ্রুত তৈরি করা জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে নজর এখন বালাসন নদীর জলস্তর এবং আবহাওয়ার দিকে। বৃষ্টি আরও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ—সবার মধ্যেই।