...
...
Next Story

CM Suvendu Adhikari: 'সিপি-কে বলেছি...,' নিরঞ্জনের সময় প্রতিমায় স্পর্শ করবেন কেবল সনাতনীরাই, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari: প্রতিমা নিরঞ্জনের তদারকি এবং গঙ্গাপাড়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বচক্ষে খতিয়ে দেখতে এদিন সকালে সরাসরি বাবুঘাটে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং পুর-কমিশনার।

Published on: Oct 21, 2026, 17:39:51 IST
Advertisement

CM Suvendu Adhikari: শারদোৎসবের আনন্দময় চার দিনের উদযাপন শেষে এবার দেবী উমার মর্ত্য ছাড়ার পালা। বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই কলকাতা-সহ সমগ্র রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব। পুজো মণ্ডপের ভিড় সামলানোর পর বিসর্জন পর্ব যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসন জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিজয়া দশমীতে দুর্গাপুজোর নিরঞ্জনের সময় যাতে গঙ্গার ঘাটগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে সেই কথা মাথায় রেখে বুধবার বেলার দিকে বাবুঘাট থেকে বাজে কদমতলা ঘাটের মতো একাধিক জায়গায় যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিরঞ্জনের সময় প্রতিমাকে স্পর্শ করতে পারবেন শুধুমাত্র সনাতনীরাই।

নিরঞ্জনের সময় প্রতিমায় স্পর্শ করবেন কেবল সনাতনীরাই, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর (@cmowbgov)
নিরঞ্জনের সময় প্রতিমায় স্পর্শ করবেন কেবল সনাতনীরাই, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর (@cmowbgov)

প্রতিমা নিরঞ্জনের তদারকি এবং গঙ্গাপাড়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বচক্ষে খতিয়ে দেখতে এদিন সকালে সরাসরি বাবুঘাটে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং পুর-কমিশনার। গঙ্গার ঘাটগুলিতে নিরাপত্তা ও সাফাই অভিযান নিয়ে উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। এবার গঙ্গা ও বিভিন্ন জলাশয়ে নজরদারি চালাতে মাঠে নামানো হয়েছে অভিজ্ঞ পুলিশ বাহিনীকে। বিসর্জন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে সরাসরি মোতায়েন করা হয়েছে ১৮ জন সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে, যার মধ্যে শুধুমাত্র কলকাতার গঙ্গাবক্ষ ও বিভিন্ন ঘাটের দায়িত্বে রয়েছেন ১২ জন অফিসার (Babughat Immersion)। গঙ্গার ঘাটে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সনাতনী ধর্মে যাঁরা বিশ্বাস করেন তাঁদের ছাড়া কেউ প্রতিমায় হাত দেবেন না, আমি সিপি (কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ)-কে বলেছি, যাঁরা এখানে আসবেন তাঁদের নাম লিখে রাখতে। ওটাও আইডেন্টিফাই করে দিতে হবে।’

তাঁর এমন নির্দেশের নেপথ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এটি ধর্মীয় আচার ও পবিত্রতা রক্ষার প্রশ্ন। কারণ, দুর্গাপুজো একটি উৎসব হলেও এর ধর্মীয় ঐতিহ্যই সবচেয়ে মুখ্য। তাঁর কথায়, ‘পবিত্রতা রাখতে গেলে যা পরম্পরা, যা ঐতিহ্য, যা শাস্ত্র, যা নিয়ম, যা হাজার হাজার বছর ধরে চলে এসেছে, সেটাকে মেনেই করতে হবে।' নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন যে, গঙ্গায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এনডিআরএফ (জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) টিম মোতায়েন থাকছে। পাশাপাশি, বিসর্জন পর্বের পর পরিবেশ রক্ষায় ২৪ তারিখের পর থেকে বিশেষ সাফাই অভিযান চালাবে পুরসভা। কলকাতার পাশাপাশি এদিন হাওড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গাধাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সীমান্ত শহর টাকির ইছামতী নদীর ঐতিহাসিক বিসর্জন নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ইছামতীতে প্রতিবছর প্রায় ২০০টি নৌকায় চড়ে পুণ্যার্থীরা ভাসানে অংশ নেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইছামতীতে সমস্ত নৌকায় লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেখানে নজরদারির জন্য একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং ডিআইজি (বারাসত রেঞ্জ) উপস্থিত থাকবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সংবিধান বিরোধী এবং দেশবিরোধী কাজ করছেন। দু’টি কাজই তিনি করছেন হিন্দু মৌলবাদীদের হয়ে। হিন্দু মৌলবাদকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। ওঁর কাছে কী তালিকা আছে, কে সনাতনী, আর কে সনাতনী নন? উনি কী বলতে পারবেন কী ভাবে সনাতনী হয়? একটা উত্তরও ওঁর কাছে নেই।’ এর পরেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মন্তব্য, ‘আসলে ওঁর কাছে আরএসএসের নির্দেশ আছে যে, আমাদের যারা হাফপ্যান্ট পরা ছেলেমেয়েরা, তাদের দাঁড় করিয়ে দাও। বুকস্টলে গিয়ে যাঁরা গুন্ডামি করছেন তাঁদের অধিকাংশ আরএসএসের কর্মী।’ প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী বলেন, ‘সংবিধান হাতে শপথ গ্রহণ করে সাংবিধানিক পদে থেকে, ভারতবর্ষের বহুত্ববাদের ওপরে তৈরি হওয়া এই সংবিধানকে সাক্ষী করে, যে মানুষটা একটা সাংবিধানিক পদে রয়েছেন, তিনি যদি এই ধরনের কথা বলেন, তাহলে ধিক্কার জানানো ছাড়া আর কোনও ভাষা থাকে না।’ শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'আসলে উনি হিন্দুধর্মের উদারতার কথাটাই জানেন না। এত সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে হিন্দুধর্মকে বোঝা যায় না।’ তাঁর প্রশ্ন— ‘মুখ্যমন্ত্রী বলছেন অহিন্দুদের নিরঞ্জনের সময় প্রতিমা না ছুঁতে। তা হলে কি কোনও অহিন্দু শ্রমিক পেশাগত কারণে প্রতিমা ছুঁতে পারবেন না?’

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks