TMC Office Cash Seizure: পুলিশ হেফাজতে থাকা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা নগদ। দীর্ঘ তল্লাশিতে উদ্ধার হয় বিপুল এই নগদ টাকা। কেন সেখানে বান্ডিল বান্ডিল টাকা রাখা হয়েছিল, এই টাকার উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের বাড়ি থেকে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, কোটি কোটি টাকায় সরকারি জমি বিক্রি করা হয়েছে। তদন্তের মধ্যেই ডায়মন্ড হারবার কালিতলা আশুতি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাটি চুরির মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। সেই মামলাতেই বেশ কিছুদিন সুমিতকে নিজেদের হেফাজতে নেয় জেলা পুলিশ। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে বলে খবর।
জানা যায়, সেই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার সরিষায় একটি তৃণমূলের পার্টি অফিসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশি চলাকালীন পার্টি অফিসের ভিতরে থাকা একটি আলমারির মধ্যে একটি ব্যাগ দেখতে পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। তা খুলতেই একেবারে চমকে ওঠেন তাঁরা। দেখেন, ব্যাগের মধ্যে থরে থরে রাখা টাকা। এদিন এই টাকা উদ্ধারের ঘটনা সামনে এনে সাংবাদিক বৈঠক করেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার। সেখানেই উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই উদ্ধার বলে তদন্তের সূত্রে জানা গিয়েছে।
কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কেন রাখা হয়েছিল? কোথা থেকে এল এই টাকা? কোনও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে এর যোগ রয়েছে কিনা, নাকি অন্য কোনও কারণে সেখানে রাখা হয়েছিল নগদ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কিনা, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরেও তদন্তকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। তাঁর কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলেও অনুমান।
{{/usCountry}}কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কেন রাখা হয়েছিল? কোথা থেকে এল এই টাকা? কোনও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে এর যোগ রয়েছে কিনা, নাকি অন্য কোনও কারণে সেখানে রাখা হয়েছিল নগদ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কিনা, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরেও তদন্তকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। তাঁর কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলেও অনুমান।
{{/usCountry}}অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওই দলীয় কার্যালয় নিয়ে আগেই পুলিশের কাছে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তৃণমূল এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে জানায়, ‘আমাদের প্রতিনিধি মইদুল ইসলাম আগেই পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেখানে উল্লেখ ছিল, দুষ্কৃতীরা আমাদের কার্যালয়টিতে ভাঙচুর চালিয়েছে—যারা পুলিশ ও বিজেপি প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সুযোগ পেয়েছিল। সেই এফআইআর-এই আমরা স্পষ্টভাবে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম যে, এই দুষ্কৃতকারীরাই আমাদের কার্যালয়ের ভেতরে বেআইনি ও অপরাধমূলক বস্তু রেখে দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা সাজানোর চেষ্টা করতে পারে।’ এই ঘটনায় তৃণমূলের তরফে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে সরিষার তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে কোটি টাকারও বেশি নগদ উদ্ধারের ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া টাকার প্রকৃত উৎস, মালিকানা কিংবা এই ঘটনায় কারও দায় সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। এখন তদন্তকারীদের নজর, এই বিপুল নগদের নেপথ্যে থাকা রহস্যের জট কতটা খোলে।