শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গ ও কলকাতায় পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল পাক চর রানা রউফ খালিদ—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের। অভিযোগ, পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর রানা ‘এসপিওনেজ সেল’ তৈরি করে নতুন সদস্য নিয়োগের কাজ শুরু করেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেও সম্ভাব্য আইএসআই এজেন্টদের নিয়োগ করার চেষ্টা চলছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশে পালানোর আগে বনগাঁ সীমান্তের কাছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফ খালিদকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। একই অভিযানে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয় তার সহযোগী মহম্মদ ইজাজকে। বর্তমানে রানাকে দফায় দফায় জেরা করছেন STF-এর আধিকারিকরা। কতগুলি সেল তৈরি হয়েছিল, কতজনকে সেখানে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং তাঁদের মাধ্যমে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, রানা শুধু তথ্য সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ ছিল না। উত্তরবঙ্গ ও কলকাতায় আইএসআইয়ের সক্রিয় নেটওয়ার্ক তৈরি করাই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডরকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি করার নির্দেশ ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
রানার পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়েও সামনে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। শনিবারের মধ্যেই ঢাকা থেকে সরাসরি বিমানে করাচি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। সেখানে পৌঁছে ইসলামাবাদের সেক্টর-৭-এ অবস্থিত আইএসআইয়ের সদর দফতরে যাওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। এই সফরের ব্যবস্থা করতে ঢাকার পাকিস্তানি হাইকমিশনের এক আধিকারিক সাহায্য করার কথা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আইএসআই সদর দফতরে গিয়ে ‘এসপিওনেজ সেল’ তৈরির বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি মডিউল সক্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে দাবি। সীমান্তবর্তী এলাকা, সেনা ছাউনি এবং বিএসএফের শিবিরে হামলার মতো নাশকতার সম্ভাবনা নিয়েও সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা এগিয়েছিল, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
{{/usCountry}}আইএসআই সদর দফতরে গিয়ে ‘এসপিওনেজ সেল’ তৈরির বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি মডিউল সক্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা ছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে দাবি। সীমান্তবর্তী এলাকা, সেনা ছাউনি এবং বিএসএফের শিবিরে হামলার মতো নাশকতার সম্ভাবনা নিয়েও সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা এগিয়েছিল, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
{{/usCountry}}রানার নেপাল-যোগও তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। গোয়েন্দাদের দাবি, কাঠমান্ডুতে থাকাকালীন সে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় পাঁচ আইএসআই এজেন্টের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ করেছিল। কাঠমান্ডুতেই শিলু নামে এক নেপালি মহিলাকে সে বিয়ে করেছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
পাঁচ এজেন্টের মধ্যে কাশিফের নামে নেপালের দু’টি এবং শ্রীলঙ্কার একটি সিমকার্ড, হানিফ চৌধুরীর নামে একটি নেপালি নম্বর, সোহেলের নামে একটি পাকিস্তানি সিম, জেডির নামে একটি নেপালি নম্বর এবং হারুন সফদারের নামে একটি বিদেশি সিমকার্ড ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে গোয়েন্দাদের দাবি।
রানা নিজেও শিলিগুড়ি থেকে দু’টি সিমকার্ড সংগ্রহ করেছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে নেপালেই নিজের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে সে। সেই ফোন এবং সিমকার্ড ব্যবহারের সূত্র ধরে শিলিগুড়ির কয়েকজন সিমকার্ড বিক্রেতাকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা।
এখন তদন্তকারীদের নজর মূলত রানার তৈরি সম্ভাব্য সেলগুলির দিকে। তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখত, কতজনকে নিয়োগ করা হয়েছিল, কী তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সঙ্গে সেই তথ্য কীভাবে আদানপ্রদান হত—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রানা জেরায় আরও কোনও নাম বা নেটওয়ার্কের তথ্য দেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোয়েন্দারা।