রবিবার পার্ক সার্কাস এলাকায় বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার পর সোমবার থেকে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। পাশাপাশি এলাকায় নামানো হয়েছে ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং আনা হয়েছে জলকামানও। তবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও পার্ক সার্কাস এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। স্থানীয় দোকানপাটও খুলেছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে গতকালকের অশান্তির ঘটনায় ৩৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। এদিকে এই ঘটনায় 'মাস্টারমাইন্ডকে' ধরা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই 'মাস্টারমাইন্ড' পার্ক সার্কাসে জমায়েতের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল।

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার দুপুরে বুলডোজার অভিযান-সহ একাধিক ইস্যুর প্রতিবাদে একদল বিক্ষোভকারী পার্ক সার্কাস এলাকায় জড়ো হন। পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অভিযোগ, প্রথমে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। এমনকী কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বাসেও হামলার অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা অশান্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়। ঘটনায় অন্তত তিনজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর শুরু হয় ধরপাকড় অভিযান। সোমবার সকাল পর্যন্ত মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন আধিকারিকরা। এদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, যারা অশান্তির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের উসকানি দেওয়া হয়েছে।