২০২৬ দুর্গাপুজোর সপ্তমীর রাত যেন এক অভিশপ্ত রাতের পরিণত হল শনিবার! উৎসবমুখর শহর যখন দুর্গাপুজোর আনন্দে ভাসছে, ঠিক তখনই বিষাদের সুর। চোরবাগানের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্টের কাণ্ডে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু সংবাদে গোটা বাংলা সহ গোটা দেশে শোকের ছায়া। উৎসবের দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনার জেরে পুজো মুখর শহর কার্যত শোকে নিস্তব্ধ! ইতিমধ্যেই আহতের সংখ্যা ২৫ বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এদিন পিএমও-র তরফে এক সোশ্যাল মিডিয়া পেস্টে প্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশ করে জানান, ‘কলকাতায় পদপিষ্টের ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যাঁরা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সবরকম সহায়তা প্রদান করছে।’ শনিবার রাতের এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর তরফে জানানো হয়েছে, মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর। পাশাপাশি আহতদের প্রত্যেকের পরিবার দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। পুরো টাকাই প্রাইম মিনিস্টার ন্যাশনাল রিলিফ ফান্ড থেকে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখা হয়, ‘প্রাণহানির ঘটনায় মৃতদের আত্মীয়দের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি আহতদেরও ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।’
প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে জোরবাগানের পুজো ঘিরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল, তা নিয়ে। উল্লেখ্য, সপ্তমীর সন্ধ্যা নামতেই শহর জুড়ে ঝেঁপে বৃষ্টি হয়। এদিকে, রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতে থাকেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনা নিয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং হবে বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।