...
...
Next Story

'অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই...,' মালদহে বিচারকদের বন্ধক, তৃণমূলকে 'মহাজঙ্গলরাজ' তোপ PM মোদীর

রাজ্যে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি-কাটমানিতে মানুষ বিরক্ত বলেও দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে, বিজেপির সরকার হলে পাকা ঘর ও জমির মালিকানার ভরসা দিয়েছেন তিনি।

Published on: Apr 5, 2026, 17:52:35 IST
Advertisement

'তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার।' কোচবিহারে জনসমাগম দেখে এভাবেই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। এই আবহে রবিবার হাইভোল্টেজ প্রচারের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দক্ষিণবঙ্গে ম্যারাথন প্রচার করছেন, তখন উত্তরবঙ্গ থেকে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের সুর বাঁধলেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজবংশী ও বাংলায় নমস্কার

তৃণমূলকে 'মহাজঙ্গলরাজ' তোপ PM মোদীর (PTI Photo/Swapan Mahapatra) (PTI03_22_2026_000155A)
তৃণমূলকে 'মহাজঙ্গলরাজ' তোপ PM মোদীর (PTI Photo/Swapan Mahapatra) (PTI03_22_2026_000155A)

এদিন দুপুর নাগাদ হাসিমারা সেনা ছাউনিতে নেমে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে কোচবিহারে যে স্থায়ী হেলিপ্যাড রয়েছে, সেখানে নামেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখান থেকে গাড়ি করে কোচবিহার রাসমেলার মাঠে সভাস্থলে আসেন। চলতি বছর জানুয়ারিতে মালদহ ও সিঙ্গুরে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি কলকাতায় ব্রিগেডে সভা করেন তিনি। সেই সভার মাসখানেকের মধ্যেই ফের রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভাকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবির। রবিবার সভার শুরুতেই সমস্ত প্রার্থীদের মঞ্চে সামনে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। হাতে হাত ধরে সকলের সঙ্গে উপস্থিত জনতার পরিচয় করিয়ে দেন। রাজবংশী ও বাংলায় সকলকে নমস্কার জানিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'সবাইকে আমি নমস্কার জানাই।' একই সঙ্গে শ্রদ্ধা জানান মদনমোহন ঠাকুর, বাণেশ্বর শিব ও গোসানিমারির কামতেশ্বর ঠাকুরকে।

নিশানায় তৃণমূল কংগ্রেস ও অনুপ্রবেশ

ব্রিগেডের জনসভার মানুষের উপস্থিতি দেখে তৃণমূল ঘাবড়ে গিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোচবিহারেও জনসমাগম দেখে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ’তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার। বাংলা থেকে ভয়ে পালাবে তৃণমূল।’ তাঁর বক্তব্য, একদিকে তৃণমূলের কাটমানির ভয়, অন্যদিকে বিজেপির উন্নয়নের ভরসা রয়েছে মানুষের সামনে। পশ্চিমবঙ্গে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোচবিহারের সভা থেকে তিনি বলেন, 'অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়েছে তৃণমূল। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে।' কিন্তু বিজেপি এই অনুপ্রবেশকারীদের আটকাবে বলে জানান তিনি।

তৃণমূলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের পর এদের সব পাপের হিসাব হবে, বেছে বেছে হিসাব করা হবে। ৪ মের পর আইন নিজের কাজ করবে। এবার ন্যায় হবেই।’ তিনি আরও জানান, এত বছর ধরে বাংলার অর্থ লুট হয়েছে। সব দুর্নীতিবাজকে লুটের পয়সা ফেরাতে হবে। এখানকার ‘নির্মম’ সরকার প্রতিদিন গণতন্ত্রকে রক্তাক্ত করছে। রবিবার মালদহে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বিচার বিভাগের আধিকারিকদের বন্ধক বানানো হয়েছে বলে তোপ দাগেন তিনি। তাঁর কথায়, 'গোটা দেশ দেখেছে, কী ভাবে বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছিল। তৃণমূলের শাসনে বিচারকেরাও রেহাই পান না। কালিয়াচকের ঘটনা তৃণমূলের নির্মম সরকারের মহা জঙ্গলরাজের উদাহরণ।' একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, 'সরকার বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, তা হলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে।' প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, অবস্থা এতটাই খারাপ যে দেশের সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

বিমানবন্দর উন্নয়নে বাধা

মালদহ, বালুরঘাট ও হাসিমারা বিমানবন্দরের উন্নয়নে রাজ্য সরকার বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চা শ্রমিকদের জন্য পিএম চা শ্রমিক যোজনাকে রাজ্য সরকার আটকে দিয়েছে বলে জানান তিনি। উত্তরকন্যা নিয়েও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, উন্নয়নের কথা বললেও অগ্রাধিকার অন্য কিছু ছিল। মেখলিগঢঞ্জে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়নি বলেও রাজ্যকে বেঁধেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও শিল্প এলে তারা তৃণমূলের সিন্ডিকেটের কারণে সমস্যায় পড়েন। কোচবিহারের কৃষকদের ফসলের যথেষ্ট দাম মেলেনা বলেও আক্রমণ করেন তিনি। আলু সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজের সংখ্যা কম বলে প্রধানমন্ত্রী জানান, এর জন্য ফসল পচে যায়।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe