Camac Street Case: ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডের (Camac Street Case) জল গড়িয়েছে সুপ্রিম দরবারে। ভবন খালি করার নির্দেশ দিয়ে পুরসভা থেকে দমকলের পরপর নোটিস যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে। বিলবোর্ড খুলতে গিয়ে পুরসভা, পুলিশকে হেনস্তার অভিযোগে আগেই ডেরেক ও'ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়দের নোটিস পাঠানো হয়েছে। এবার ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডের জেরে প্রাক্তন আইপিএস (IPS) তথা ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বাড়িতে পুলিশ। রবিবার সাত সকালে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হয় শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, থানায় তলব করা হয়েছে হুমায়ুন কবীরকে। সেই সংক্রান্ত নোটিশ দিতেই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশ।

জানা গিয়েছে, এর আগেও দু'বার নোটিস দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবীরের বাড়ি থেকে ফিরতে হয় পুলিশকে। রবিবার সকালে পুলিশ আধিকারিকরা গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তাঁর বাড়ির দরজায় ডাকাডাকি করেন। সেই সময় বাড়িতেই ছিলেন তিনি। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর গাড়ির চালকের হাতে নোটিশ তুলে দেওয়া হলে, তাতে সই করে তা পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেন হুমায়ুন কবীর। আগামী বুধবার অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টায় তাঁকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশে সই করার পর প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের গাড়ির চালক মারফৎ তিনি পুলিশকে জানান যে, বুধবার নয়, সোমবার তিনি নিজেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হতে চান।
ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডের সূত্রপাত ২৭ আগস্ট। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে একটি বিলবোর্ড অপসারণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কলকাতা পুরসভার আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীরা ওই অবৈধ বিলবোর্ডটি খুলতে গেলে বচসা বাধে। অভিযোগ, অভিষেকের অফিসে ঢুকতে গেলে কলার ধরে পুলিশকে মারধর করা হয়। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী সিঁড়িতে পড়ে যান বলেই খবর। পুরকর্মীদেরও বারবার বাধা দেওয়া হয়। পুরসভার কাজকর্মে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকর্মীদের মারধরের অভিযোগে তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ওই মামলাগুলিতে নাম রয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীর-সহ একাধিক নেতার।
ইতিমধ্যেই ডেরেক, অভিষেক এবং বৈশ্বানরেরা একবার থানায় হাজিরাও দিয়েছেন। এছাড়াও, সোমবার হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের এবং মঙ্গলবার ফের তলব করা হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। এর মাঝেই প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে তলব করা হল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
{{/usCountry}}ইতিমধ্যেই ডেরেক, অভিষেক এবং বৈশ্বানরেরা একবার থানায় হাজিরাও দিয়েছেন। এছাড়াও, সোমবার হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের এবং মঙ্গলবার ফের তলব করা হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। এর মাঝেই প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে তলব করা হল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের পার্টি অফিস ছেড়ে দেওয়ার নোটিশে কলকাতার সিটি সিভিল কোর্ট অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও পার্টি অফিস ব্যবহার নিয়ে ফের প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে দমকলের দেওয়া নোটিসে। আপাতত ওই জায়গায় পার্টি অফিস ব্যবহার করা যাবে না বলেই মত আইনজীবীদের। তৃণমূলের আইনজীবী আর্ক কুমার নাগ জানান, গত ২৫ আগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটের সপ্তম এবং অষ্টম তলায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার নোটিস দেয় বাড়ির মালিক। শনিবার সেই নোটিসে স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতার সিটি সিভিল কোর্ট। কিন্তু আইনজীবী মহলের মতে, তাতেও তৃণমূলের পার্টি অফিস ব্যবহারের আইনি জট কাটেনি। এরই মধ্যে দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জায়গাটি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। ফলে ভবনের ভিতরে ও আশেপাশের মানুষের জীবনে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে। তাই অবিলম্বে ওই অংশগুলি খালি করতে হবে। নতুন করে শংসাপত্র না-পাওয়া পর্যন্ত ওই জায়গা ব্যবহার করা যাবে না।