...
...
Next Story

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ৪৮ ঘন্টা পর পুলিশের জালে গুদাম মালিক, বাড়ছে নিখোঁজের...

মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সেখানে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে তেল, গ্যাস ও বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী।

Published on: Jan 28, 2026, 13:14:51 IST
Advertisement

কেটে গেছে প্রায় ৪ দিন। এখনও আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে খোঁজ পাওয়া যায়নি বহু মানুষের। তবে এই ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার করা হল গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। পূর্ব মেদিনীপুরের বাড়ি থেকে অভিযুক্তকে ধরা হয়।

৪৮ ঘন্টা পর পুলিশের জালে গুদাম মালিক (সৌজন্যে টুইটার)
৪৮ ঘন্টা পর পুলিশের জালে গুদাম মালিক (সৌজন্যে টুইটার)

সূত্রের খবর, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে নেমে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের একটি দল মেদিনীপুরে হানা দেয়। তখনই গঙ্গাধর দাসকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখে আটক করা হয়। পরে বারুইপুর জেলা পুলিশের তরফে তাঁকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়েছে। বুধবার গঙ্গাধর দাসকে বারুইপুর মহকুমার আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। যদিও গুদামের মালিক এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার দায় চাপিয়েছেন মোমো সংস্থার ঘাড়ে। জানা গেছে, যে গুদামে আগুন লেগেছে সেখানে পুরো জমিটারই মালিক ছিলেন গঙ্গাধর। মোমো কোম্পানি ডেকরেটার্সের গোডাউন লিজে নিয়েছিল। তবে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের পর গা ঢাকা দেন গঙ্গাধর দাস। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা দিলেন তিনি।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে, ঘটনাস্থল থেকে আরও তিনজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিখোঁজ ১৫ জনের বেশি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ‌ মঙ্গলবার নতুন করে একটি নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনায় রাজ্যের তরফ থেকে ইতিমধ্যে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৃত পরিবারদের পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড ঘটনায় মঙ্গলবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এ কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও দেহ বাদ দিয়ে শনাক্তকরণ হলেই পরিবারের হাতে চেক তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী।

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড

সোমবার দমকল আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই গোডাউনে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে এসে সেই কথাই কার্যত স্বীকার করেন দমকলমন্ত্রী। তাঁর কথায়, 'প্রচুর জায়গায় প্রচুর কারখানা রয়েছে। অনেকে লাইসেন্স নিয়ে করছেন, অনেকে বেআইনিভাবে করছেন। এখনই বলতে পারব না, ওদের কাছে কী কাগজপত্র ছিল। যদি বেআইনিভাবে হয়ে থাকে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' সবকিছুর মাঝেই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নিখোঁজদের পরিজনেরা। তাঁদের আক্ষেপ, চরম অব্যবস্থা আর নজরদারির গাফিলতির মূল্য দিতে হল অনেকগুলো প্রাণ দিয়ে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe