তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মালদহ জেলায় পুলিশ পর্যবেক্ষক পদে রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। বিহারের এক বিজেপি নেত্রীর স্বামীকে ওই পদে নিয়োগ করা হয়েছে, এই মর্মে কমিশনে নালিশ জানিয়েছিল তৃণমূল। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরেই চার বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিহার ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হৃদয় কান্ত।
পুলিশ পর্যবেক্ষক পদে রদবদল

মালদহের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র-মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং বৈষ্ণবনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রথমে নিয়োগ করা হয়েছিল জয়ন্ত কান্তকে। তাঁকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। সূত্রের খবর, পূর্ব পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্ত উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। তৃণমূলের দাবি, কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী স্মৃতি পাসোয়ান। স্ত্রী বিজেপির নেত্রী হলে তাঁর স্বামী কীভাবে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবেন? প্রশ্ন তোলে শাসক দল। তৃণমূলের সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর কমিশন শনিবার জানিয়ে দেয়, মালদহের ওই চার কেন্দ্রে জয়ন্ত কান্তের পরিবর্তে নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন আইপিএস অফিসার হৃদয় কান্ত। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হলেও বিহার ক্যাডারের আধিকারিক।
শুধু মালদহ নয়, আরও একাধিক কেন্দ্রে পর্যবেক্ষক বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ, সাগরদিঘি - এই কেন্দ্রগুলিতেও নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি জামুড়িয়া, আসানসোল দক্ষিণ, আসানসোল উত্তর, কুলটি, বারাবনি - এই শিল্পাঞ্চলগুলিতেও বদল আনা হয়েছে। এছাড়াও খড়গপুর সদর, পিংলা, খড়গপুর ও ডেবরা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পর্যবেক্ষকদেরও সরানো হয়েছে। নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাগদা, বনগাঁ উত্তর, হাবড়া, অশোকনগর এবং আমডাঙা এলাকার পর্যবেক্ষকদের। মূলত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই নির্বাচনের মুখে এই পদক্ষেপ নিল কমিশন।
ত্রিস্তরীয় পর্যবেক্ষক
নির্বাচন কমিশন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ত্রিস্তরীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। এবার রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ২৯৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং আয়-ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক। কমিশন সূত্রে খবর, সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের জন্য এবার মোট ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন।
তৃণমূলের কী অভিযোগ?
{{/usCountry}}নির্বাচন কমিশন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ত্রিস্তরীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। এবার রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ২৯৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং আয়-ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক। কমিশন সূত্রে খবর, সুষ্ঠুভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের জন্য এবার মোট ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন।
তৃণমূলের কী অভিযোগ?
{{/usCountry}}এই প্রসঙ্গে দমদম কেন্দ্রের প্রার্থী ব্রাত্য বসু বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না জ্ঞানেশ কুমার। তিনি এটাকে ব্যক্তিগত ভাবে নিয়েছেন। সরকার ও দল কি করে এক হতে হয়, তা হিটলারের পর জ্ঞানেশ কুমার দেখাচ্ছেন। এমসিসি চলাকালীন যা যা বদল হচ্ছে, আর বিহারে এম সি সি ঘোষণার পরে নীতীশ কুমার টাকা ঘোষণা করেছিল।' এরপরেই তিনি অভিযোগ করেন, 'জয়ন্ত কান্ত, মাণিকচক, বৈষ্ণবনগর, সুজাপুর ও মোথাবাড়ির পুলিশ পর্যবেক্ষক। ২০০৯ সালের আইপিএস। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা, বিহারে কর্মরত।' উল্লেখ্য, রাজ্যের ২৯৪টি আসনে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল- এই দুই দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।