Prateek Ur Rahman: নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে ধর্মতলায় বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। পুলিশের লাঠিচার্জ ও পদক্ষেপের সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেন তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বামপন্থী ছাত্রনেতা প্রতীক উর রহমান। আর সেই পোস্ট ঘিরেই পাল্টা আক্রমণ শানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, ছাত্র আন্দোলনের সময় মাঠে দেখা না গেলেও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হওয়ার চেষ্টা করছেন প্রতীক।

একসময় বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির পরিচিত মুখ ছিলেন প্রতীক উর রহমান। বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। পরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার পর তাঁকে দলের সক্রিয় মুখ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই নীরব ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
এদিকে, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে ছাত্রদের আন্দোলন যখন তীব্র আকার নেয়, তখন প্রতীক উর রহমানকে প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। যদিও ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলনের প্রতি তৃণমূলের একাধিক নেতা সমর্থন জানিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ধর্মতলার ঘটনার পর তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার দিল্লির আন্দোলনের প্রভাব পড়ে কলকাতাতেও। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেয় এসএফআই। সেই কর্মসূচিতে ককরোচ জনতা পার্টির কলকাতার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন কিছু দুষ্কৃতী অশান্তি সৃষ্টি করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, জুতো-সহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয়। পাশাপাশি কয়েকজন সাংবাদিকের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ-সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে।
এই ঘটনার পর প্রতীক উর রহমান সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ধর্মতলায় ছাত্রদের উপর পুলিশি জুলুম ও লাঠিচার্জকে তীব্র ধিক্কার জানাই। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। প্রতীকের পোস্টের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, অত বড় নেতা, ছাত্র আন্দোলনে যাননি কেন? এ পার্টি, ও পার্টি করে বেড়াচ্ছেন। যে পার্টিতে যাচ্ছেন, সেই পার্টিই ডুবে যাচ্ছে। এখন ছাত্র আন্দোলনকে ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশের পদক্ষেপের সমর্থনে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ আইন মেনেই ব্যবস্থা নিয়েছে। কেউ আইনের সীমা লঙ্ঘন করলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
{{/usCountry}}এই ঘটনার পর প্রতীক উর রহমান সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ধর্মতলায় ছাত্রদের উপর পুলিশি জুলুম ও লাঠিচার্জকে তীব্র ধিক্কার জানাই। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। প্রতীকের পোস্টের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, অত বড় নেতা, ছাত্র আন্দোলনে যাননি কেন? এ পার্টি, ও পার্টি করে বেড়াচ্ছেন। যে পার্টিতে যাচ্ছেন, সেই পার্টিই ডুবে যাচ্ছে। এখন ছাত্র আন্দোলনকে ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশের পদক্ষেপের সমর্থনে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ আইন মেনেই ব্যবস্থা নিয়েছে। কেউ আইনের সীমা লঙ্ঘন করলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
{{/usCountry}}ধর্মতলার বিক্ষোভে সাংবাদিক নিগ্রহ, পুলিশের পদক্ষেপ এবং তার পর প্রতীক উর রহমানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের অন্দরে ও বিরোধী রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে। একদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে প্রতীক উরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। এই ঘটনাকে ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।