রাজারহাটের দক্ষিণ নারায়ণপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বিস্ফোরণকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুপারি বাগান এলাকার একটি বাড়িতে প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন এক ব্যক্তি। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাড়ির দেওয়াল ও দরজা ভেঙে যায় এবং অন্তত দুটি ঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পরই এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। ইতিমধ্যেই একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, কীভাবে ওই বাড়িতে বিস্ফোরক এল এবং এর নেপথ্যে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে বোমা ফেটেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর সুতলি বোমা উদ্ধার হয়েছে। ফলে ওই ঘরে আগে থেকেই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত ছিল, নাকি বাইরে থেকে এনে রাখা হয়েছিল, সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র দু'-তিন দিন আগে এক দালালের মাধ্যমে দুই ব্যক্তি ওই বাড়ির একটি ঘর ভাড়া নেন। বাড়ির মালিককে তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা শুধুমাত্র রাতে এসে থাকবেন। সেই কারণেই তাঁদের নিয়ে প্রথমদিকে বিশেষ সন্দেহ তৈরি হয়নি। তবে ঘটনার দিন রাতে বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটেরা দেখেন, ওই দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন হাতে একটি সাদা ব্যাগ নিয়ে ঘরে ঢুকছেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ব্যাগটি ঘরে রেখে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে কেঁপে ওঠে গোটা বাড়ি। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের দরজা-জানলা উড়ে যায়, দেওয়ালের একাংশ ভেঙে পড়ে এবং আশপাশের ঘরগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন অন্যান্য ভাড়াটেরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে গুরুতর জখম হন বিস্ফোরণস্থলের পাশের ঘরে থাকা এক ব্যক্তি। বিস্ফোরণের অভিঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনও চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
{{/usCountry}}সবচেয়ে গুরুতর জখম হন বিস্ফোরণস্থলের পাশের ঘরে থাকা এক ব্যক্তি। বিস্ফোরণের অভিঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনও চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
{{/usCountry}}ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিস্ফোরণের পুরো ঘটনাটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সেই ফুটেজে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি সাদা ব্যাগ হাতে ঘরে ঢুকছেন এবং কয়েক মিনিট পর বেরিয়ে আসছেন। তার কিছুক্ষণ পরেই বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই সেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন এবং সেটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই একজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্ফোরণের কারণ, ওই ঘরে বিস্ফোরক আনার উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, যে দালালের মাধ্যমে ঘরটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, তাঁর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। বিস্ফোরক মজুত বা বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। তাদের রিপোর্ট হাতে এলেই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত গোটা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।