আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ৭০ জনেরও বেশি বিধায়ককে প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে নির্বাচনে অনেকেই টিকিট না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে এবার টিকিট পেয়েও দলকে অস্বস্তিতে ফেললেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, আসন্ন ভোটে ডেবরা আসনের জন্য প্রার্থী করা হয়েছে রাজীবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজীব বলেন, 'আমার ডেবরা আসার কথা ছিল না।' এর আগে রাজীব ডোমজুর থেকে বিধায়ক থেকেছেন। পরে বিজেপিতে যোগদান করে ডোমজুর থেকে হেরেছিলেন রাজীব। তারপরে তিনি তৃণমূলে ফিরে গিয়েছিলেন। তবে নিজের পুরনো আসনে ফিরতে পারেননি রাজীব।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে এক বার্তায় রাজীব নাকি বলেছেন, 'দল আমাকে আপনাদের এখানে দায়িত্ব দিয়েছে। এর আগে আর এক জায়গার নাম বলেছিল। কিন্তু যে কোনও কারণে হোক সেটা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আমার তো ডেবরায় আসার কথা ছিল না। অন্য জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল।' এদিকে দের অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্বীকার করে নেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেই বিষয়ে অবশ্য বলেন, 'এটি বড় কোনও বিষয় নয়। আমরা সমস্ত গোষ্ঠীর নেতাদের এক টেবিলে বসিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নেব। নির্বাচনের লড়াইয়ে সবাই একজোট হয়েই নামবে।'
উল্লেখ্য, এর আগে ডেবরার বিধায়ক ছিলেন প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর। এবার তাঁকে ডোমকলে পাঠিয়েছে দল। আর তাঁর জায়গায় রাজীবকে ডেবরায় প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে রাজীবকে ডেবরার প্রার্থী করায় 'বহিরাগত' ইস্যুতে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। এই নিয়ে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, 'ডেবরার মানুষ এবার একজন ভূমিপুত্রকেই বিধায়ক হিসেবে দেখতে চান। আমরা সেই আবেগকেই সম্মান জানিয়ে স্থানীয় প্রার্থী দিয়েছি। তৃণমূলের অন্দরে পরিস্থিতি এমন যে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে কেউ প্রার্থী হতে চাইছেন না। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে প্রার্থী আমদানি করতে হচ্ছে।'