এক সময় ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি এবং লুঠপাটের মামলায় দীর্ঘ ১৬ বছর জেল খেটেছিল সে। সাজা ভোগ করে বাইরে ফিরেছিল অভিযুক্ত কমলেশ বালা। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়েও যে তার আচরণে বদল আসেনি, আদালতের রায়ে তারই ভয়াবহ ছবি সামনে এল। এ বার নিজের খুড়তুতো দাদার ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হল কমলেশ। বনগাঁ মহকুমা আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ জীবনের বাকি সময়টা তাকে জেলেই কাটাতে হবে।

২০০৩ সালের ধানতলা ধর্ষণকাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল কমলেশের। সে সময় নদিয়ার ধানতলার আইশমালিতে বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে দু’টি বাস থামিয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছিল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ধানখেতের কাছে বাস থামিয়ে যাত্রীদের উপর হামলা, মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতন এবং লুঠপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে খুব দূরে না থাকা পুলিশ ফাঁড়ি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। পুলিশ সব জেনেও ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও তখন অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটায় কমলেশ। প্রায় ১৬ বছর পর জেল থেকে বাড়ি ফেরে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি। কিন্তু অভিযোগ, বাইরে ফিরে খুব বেশি দিন কাটেনি, তার বিরুদ্ধেই ফের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিজের আত্মীয়ের ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। জানা যায়, ঘটনার সময় নাবালিকার মা তাকে বাড়িতে রেখে পুকুরে কাপড় কাচতে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে বাড়িতে একা থাকা মেয়েটির উপর কমলেশ হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর নাবালিকার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শারীরিক ভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও মানসিক ভাবে সে ভেঙে পড়ে বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়।
{{/usCountry}}ঘটনার পর নাবালিকার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করান। প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শারীরিক ভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও মানসিক ভাবে সে ভেঙে পড়ে বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়।
{{/usCountry}}অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত কমলেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতে একের পর এক সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, এই মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষী আদালতে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন। তদন্ত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক রাজীব সাহা।
সোমবার সাজা ঘোষণার সময় বনগাঁ মহকুমা আদালত জানায়, কমলেশকে আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, ঘটনার এক বছরের মধ্যেই মামলার বিচার শেষ করে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এই রায়ের ফলে জীবনের বাকি সময় আর জেলের বাইরে কাটানোর সুযোগ থাকবে না দোষীর।
তবে আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট নয় কমলেশের পক্ষ। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে। ফলে আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। কিন্তু আদালতের এই রায় ফের সামনে এনে দিল এক পুরনো প্রশ্ন, দীর্ঘ কারাবাসের পরও কি সত্যিই বদলেছিল কমলেশের জীবন? বর্তমান মামলার রায় বলছে, সেই বদলের প্রমাণ অন্তত দেখা যায়নি।