...
...
Next Story

Rape Case: ধানতলা কাণ্ডে ১৬ বছর জেল খেটেও বদলায়নি, ভাইঝিকে ধর্ষণে আমৃত্যু কারাদণ্ড কমলেশ বালার

নিজের খুড়তুতো দাদার ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হল কমলেশ। বনগাঁ মহকুমা আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ জীবনের বাকি সময়টা তাকে জেলেই কাটাতে হবে।

Published on: Oct 2, 2026, 09:56:59 IST
Advertisement

এক সময় ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি এবং লুঠপাটের মামলায় দীর্ঘ ১৬ বছর জেল খেটেছিল সে। সাজা ভোগ করে বাইরে ফিরেছিল অভিযুক্ত কমলেশ বালা। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়েও যে তার আচরণে বদল আসেনি, আদালতের রায়ে তারই ভয়াবহ ছবি সামনে এল। এ বার নিজের খুড়তুতো দাদার ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হল কমলেশ। বনগাঁ মহকুমা আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ জীবনের বাকি সময়টা তাকে জেলেই কাটাতে হবে।

জীবনের বাকি সময়টা কমলেশ বালাকে জেলেই কাটাতে হবে।
জীবনের বাকি সময়টা কমলেশ বালাকে জেলেই কাটাতে হবে।

২০০৩ সালের ধানতলা ধর্ষণকাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল কমলেশের। সে সময় নদিয়ার ধানতলার আইশমালিতে বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে দু’টি বাস থামিয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছিল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ধানখেতের কাছে বাস থামিয়ে যাত্রীদের উপর হামলা, মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতন এবং লুঠপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে খুব দূরে না থাকা পুলিশ ফাঁড়ি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। পুলিশ সব জেনেও ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও তখন অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটায় কমলেশ। প্রায় ১৬ বছর পর জেল থেকে বাড়ি ফেরে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি। কিন্তু অভিযোগ, বাইরে ফিরে খুব বেশি দিন কাটেনি, তার বিরুদ্ধেই ফের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিজের আত্মীয়ের ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। জানা যায়, ঘটনার সময় নাবালিকার মা তাকে বাড়িতে রেখে পুকুরে কাপড় কাচতে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে বাড়িতে একা থাকা মেয়েটির উপর কমলেশ হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত কমলেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতে একের পর এক সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় দাস জানিয়েছেন, এই মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষী আদালতে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন। তদন্ত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক রাজীব সাহা।

সোমবার সাজা ঘোষণার সময় বনগাঁ মহকুমা আদালত জানায়, কমলেশকে আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, ঘটনার এক বছরের মধ্যেই মামলার বিচার শেষ করে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এই রায়ের ফলে জীবনের বাকি সময় আর জেলের বাইরে কাটানোর সুযোগ থাকবে না দোষীর।

তবে আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট নয় কমলেশের পক্ষ। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে। ফলে আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। কিন্তু আদালতের এই রায় ফের সামনে এনে দিল এক পুরনো প্রশ্ন, দীর্ঘ কারাবাসের পরও কি সত্যিই বদলেছিল কমলেশের জীবন? বর্তমান মামলার রায় বলছে, সেই বদলের প্রমাণ অন্তত দেখা যায়নি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks