আরজি করে নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা নতুন করে অভিযোগ দায়ের করার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই পরপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। আর বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশের জালে ধরা পড়েন আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের ‘কাকু’ বলে পরিচিত প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। পরপর এই দুই গ্রেফতারিতে খুশি আরজি করে খুন হওয়া চিকিৎসকের মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেছেন, পাঁচ বছর আগে এমন মুখ্যমন্ত্রী থাকলে তাঁর মেয়েকে কেউ তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারত না।

গত ৯ অগস্ট আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের স্মরণসভায় দ্রুত পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নতুন করে মামলা শুরু করে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিহত চিকিৎসকের বিচার নিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে।
এর পরের দিন, অর্থাৎ ১০ অগস্ট, মৃত চিকিৎসকের বাবা নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে গতি আসে বলে দাবি করা হয়েছে। ১৩ অগস্ট সকালে ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মৃতদেহ তড়িঘড়ি সৎকার এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই দ্বিতীয় বড় পদক্ষেপ নেয় খড়দহ থানার পুলিশ। প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়। নিহত চিকিৎসকের বাড়ির কাছেই তাঁর বাড়ি। গত কয়েকদিন ধরে তিনি এলাকায় ছিলেন না বলে জানা গিয়েছিল। সূত্রের দাবি, গ্রেফতারি আসন্ন বুঝতে পেরে শেষ পর্যন্ত নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দেন সঞ্জীব। লুধিয়ানা থেকে ফেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সঞ্জীবের বিরুদ্ধে মৃতদেহ দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করা, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করার মতো অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সময় তাঁর ভূমিকা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
{{/usCountry}}সঞ্জীবের বিরুদ্ধে মৃতদেহ দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করা, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করার মতো অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সময় তাঁর ভূমিকা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
{{/usCountry}}দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারির পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান আরজি করে খুন হওয়া চিকিৎসকের মা। দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন, বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। তাঁর দাবি, ৯ অগস্ট স্মরণসভায় মুখ্যমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই অনুযায়ী প্রশাসন কাজ শুরু করেছে এবং দু’জন অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও গ্রেফতারি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তাঁর পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, পাঁচ বছর আগে যদি এমন মুখ্যমন্ত্রী এবং এমন স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে তাঁর মেয়েকে তিনি হারাতেন না। একইসঙ্গে বাংলার সমস্ত মা-মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
রত্না দেবনাথ এনআরএস হাসপাতালের নার্সের মৃত্যুর ঘটনাতেও মুখ খুলেছেন। তিনি ওই ঘটনার নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেছেন, তদন্তে যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
পরপর দুই সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মী ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই আকজি কর-কাণ্ডে পুলিশের এই জোড়া গ্রেফতারি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন তদন্ত কতদূর এগোয়, বাকি অভিযোগগুলির সত্যতা কীভাবে প্রমাণিত হয় এবং মামলায় আরও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।