রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অধ্যাপক সোনালি চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, তিনি ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। এর আগে গত ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের পর তিনি ব্রিগেড ময়দান থেকে সরাসরি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীর পাশে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তীকে দেখা গিয়েছিল। ঠিক এক মাসের মধ্যেই তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে এসেছে।

সোনালি চক্রবর্তীর উপাচার্য পদে নিয়োগের বিষয়টি শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। গত বছর তাঁর নাম রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সুপারিশ করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই প্রস্তাবে প্রথমদিকে সম্মতি দেননি তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপালের বক্তব্য ছিল, সোনালি চক্রবর্তী তখন অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন, ফলে একই সময়ে তাঁকে রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করা সম্ভব নয়।
সেই সময় তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর গত বছরের আগস্ট মাসে তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, সোনালি চক্রবর্তী প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী। মুখ্যসচিব পদে পদত্যাগের পরে তাঁকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তাঁর পদত্যাগ নতুন করে নানা প্রশ্ন ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও ইস্তফার কারণ সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।