রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে ফের বড়সড় রাজনৈতিক মোড়। প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধের জেরে ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামফ্রন্টের শরিক দল আরএসপি। সোমবার দলের রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁর অভিযোগ, মনোনয়ন যাচাই বা স্ক্রুটিনি পর্ব শেষ হওয়ার পর কমিশনের তরফে জানানো হয়, আরএসপির পরিচিত ‘কোদাল-বেলচা’ প্রতীক এবার ব্যবহার করা যাবে না। পরিবর্তে দলকে ‘বালতি’ প্রতীকে ভোটে লড়তে বলা হয়েছিল। এর প্রতিবাদেই প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আরএসপি জানিয়েছে।

রেজিনগর আসনকে কেন্দ্র করে বামেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ অবশ্য অনেক আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। এই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে আরএসপির সংগঠনভিত্তিক এলাকা বলে দলটির দাবি। সেই কারণে উপনির্বাচনে তারাই প্রার্থী দেবে বলে আশা করেছিল আরএসপি। কিন্তু বামফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএম আলাদা ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে। এর পরেই দুই শরিকের মধ্যে মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে। শেষ পর্যন্ত আরএসপিও নিজেদের প্রার্থী হিসেবে বিকাশচন্দ্র সিংহকে দাঁড় করায়। দুই দলই আলাদা ভাবে মনোনয়ন জমা দেয় এবং প্রচার শুরু করে।
এর মধ্যেই সামনে আসে প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্ক। আরএসপির বক্তব্য, ‘কোদাল-বেলচা’ তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। দলটির দাবি, এই প্রতীক শুধু নির্বাচনী চিহ্ন নয়, তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগঠনের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে প্রতীক বদলের নির্দেশ তারা মেনে নিতে রাজি নয়। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তপন হোড়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটি।
অন্যদিকে, কমিশনের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আরএসপি বর্তমানে স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। সেই কারণে দলের পুরনো নির্দিষ্ট প্রতীক বরাদ্দ করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে আরএসপির অভিযোগ, মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় এই বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতাকে তারা মেনে নিতে পারেনি।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, কমিশনের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আরএসপি বর্তমানে স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। সেই কারণে দলের পুরনো নির্দিষ্ট প্রতীক বরাদ্দ করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে আরএসপির অভিযোগ, মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় এই বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতাকে তারা মেনে নিতে পারেনি।
{{/usCountry}}আরএসপি ভোট থেকে সরে যাওয়ায় রেজিনগরে বামেদের পক্ষে এখন শুধু সিপিএমই প্রার্থী রেখেছে। ফলে দুই বাম শরিকের সরাসরি লড়াইয়ের সম্ভাবনা আপাতত শেষ হয়েছে। তবে আরএসপি ভবিষ্যতে সিপিএম প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামবে কি না, কিংবা ভোটের দিন দলীয় সমর্থন কোন দিকে যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, রেজিনগরের নির্বাচনী লড়াইয়ে আরও একটি পরিবর্তন হয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর আগেই প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং পুলিশি পদক্ষেপের কারণে প্রচার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফলে উপনির্বাচনের আগে রেজিনগরে একের পর এক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রতীক-বিতর্ক, শরিকি দ্বন্দ্ব এবং একাধিক প্রার্থীর অবস্থান বদলের কারণে ভোটের সমীকরণও বদলে যাচ্ছে। এখন নজর থাকবে, আরএসপির পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয় এবং তাদের সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত কোন পথে যান।