ক্রমেই ভোটের হাওয়া বেশ গরম হয়ে উঠেছে, কারণ বিধানসভা নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসছে। চারিদিকে চলেছে নেতা মন্ত্রীদের ভোটের প্রচার। আর ভোটের মুখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কলকাতা পুলিশে বড়সড় রদবদল। এতদিন প্রশাসনিক মহলে একের পর এক আমলার বদলি ঘিরে চাপানউতোর চলছিলই। চাপানউতোর চলছিল পুলিশের উপরতলায় বদলি নিয়েও। এবার লালবাজারের পক্ষ থেকে কমিশনারের ১৮১ ও ১৮২ নম্বর অর্ডার জারি করে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার একাধিক আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে।

এই রদবদলে মূলত শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ওসি-দের সরিয়ে ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট (ডিডি), এসটিএফ বা স্পেশাল ব্রাঞ্চের মতো বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পার্ক স্ট্রিট থানার ওসি হীরক দলাপতি এবং বিজয়গঞ্জ বাজার থানার ওসি অংশুমান রায়কে লালবাজারের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টে বদলি করা হয়েছে। একইভাবে চেতলা থানার ওসি অমিতাভ সরকারকে এসটিএফে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ১৮২ নম্বর অর্ডার অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলোতে নতুন আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লালবাজারের ডিডি থেকে নীলকান্ত রায়কে পার্ক স্ট্রিট থানার নতুন ওসি করা হয়েছে। শ্যামপুকুর থানার অতিরিক্ত ওসি রাজ কুমার মিশ্রকে গড়িয়াহাট থানার এবং এন্টালি থানার অতিরিক্ত ওসি মনীশ সিংকে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসটিএফ থেকে মনোজ দত্তকে ফিরিয়ে এনে চেতলা থানার নতুন ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক এই রদবদলে হেয়ার স্ট্রিট ও ঠাকুরপুকুর থানার ওসি পদের ক্ষেত্রেও রদবদল দেখা গেছে। এই দুই থানার বর্তমান ওসি লোপসাং তশেরিং ভুটিয়া এবং রাজীব সাহুর মধ্যে পারস্পরিক বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত প্রশান্ত মজুমদারের আগের বদলির নির্দেশ বাতিল করে তাঁকে বর্তমান বিভাগেই বহাল রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে গত ২৯ মার্চের ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর অর্ডারেও কিছু আংশিক পরিবর্তনের পাশাপাশি কিছু সংশোধনও এনেছে লালবাজার। প্রসঙ্গত, অমিত শাহের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে রোড শো ঘিরে অশান্তির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভবানীপুর। সেই কাণ্ডের পরই রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে চিঠি দিয়ে ভবানীপুরের ঘটনায় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। একই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশ ছিল, শীঘ্রই ওই চার জায়গায় অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। এই আবহে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশের ৬ থানার ওসিদের বদল করল কমিশন।