আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তিলোত্তমার মৃতদেহ উদ্ধারের পর তড়িঘড়ি দাহ করার ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য পুলিশ। মৃতদেহ দ্রুত সৎকারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগে পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল বেঙ্গালুরুতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। এই গ্রেফতারির পর আর জি কর কাণ্ডের তদন্তে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ অগস্ট আর জি কর হাসপাতালে তিলোত্তমার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই সোমনাথ দে-র সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ পানিহাটির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে দ্রুত দাহ করার প্রক্রিয়ায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। পরিবারের তরফেও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনিক প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি দ্রুত দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেছিলেন।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, গোটা প্রক্রিয়ার পিছনে উদ্দেশ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে দেওয়া, যাতে ঘটনার প্রকৃত তদন্তে সমস্যা তৈরি হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্বাভাবিক আইনি ও সামাজিক প্রক্রিয়া মেনে দেহ সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরিবর্তে তাড়াহুড়ো করে সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই কারণেই সোমনাথ দে-র ভূমিকা তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই সোমনাথ দে প্রকাশ্যে ছিলেন না বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। তদন্তকারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ চালাচ্ছিলেন। অবশেষে গোপন সূত্রে তাঁর বেঙ্গালুরুতে থাকার খবর পাওয়া যায়। এরপর বিশেষ তদন্তকারী দল সেখানে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড নিয়ে শুক্রবার তাঁকে খড়দহ থানায় আনা হতে পারে। এরপর তাঁকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বিশেষ করে তদন্তকারীরা জানতে চাইবেন, তিলোত্তমার দেহ দ্রুত দাহ করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, কার নির্দেশে এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় আর কারা জড়িত ছিলেন।
{{/usCountry}}পুলিশ জানিয়েছে, আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড নিয়ে শুক্রবার তাঁকে খড়দহ থানায় আনা হতে পারে। এরপর তাঁকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বিশেষ করে তদন্তকারীরা জানতে চাইবেন, তিলোত্তমার দেহ দ্রুত দাহ করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, কার নির্দেশে এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় আর কারা জড়িত ছিলেন।
{{/usCountry}}তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনিক ক্ষমতার সম্ভাব্য অপব্যবহার। একজন পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কীভাবে এত দ্রুত দেহ সৎকারের বন্দোবস্তে সক্রিয় হয়ে উঠলেন, তাঁর কাছে আদৌ কোনও সরকারি নির্দেশ ছিল কি না এবং তিনি অন্য কারও নির্দেশ পালন করেছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
এই গ্রেফতারির মাধ্যমে আর জি কর মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়ল। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফলে মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকে সৎকার পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সোমনাথ দে-কে জিজ্ঞাসাবাদে যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে, তাহলে তিলোত্তমার মৃত্যুর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এবং প্রমাণ নষ্টের অভিযোগের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তদন্তকারীরা আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন। তাই এই গ্রেফতারিকে আর জি কর কাণ্ডের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।