RG Kar Rape & Murder New FIR: রাজ্যে সরকার বদলের পর ফের নতুন করে খুলল আরজি কর কাণ্ডের তদন্তের ফাইল। চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এবার পৃথক মামলা দায়ের করে তদন্তের পথে এগোল পুলিশ। দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে নিহত চিকিৎসকের স্মরণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মৃত চিকিৎসকের মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই স্মরণসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অস্পষ্ট বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর নির্দেশে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠন করে পৃথক মামলা দায়ের করার কথা জানানো হয়।
নতুন তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছে দেহ সৎকারের প্রক্রিয়া। ঘটনার দিন কেন তড়িঘড়ি মৃতদেহ দাহ করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইছে তদন্তকারী দল। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে দাহের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম হয়েছিল। শ্মশানের রেজিস্টার অনুযায়ী দাহের সিরিয়াল তিন নম্বরে থাকার কথা থাকলেও তা রাতারাতি বদলে এক নম্বর করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এছাড়াও মৃতদেহ দাহের নির্ধারিত খরচ পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি কেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। পরিবারের কোনও নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তিন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৎকালীন পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের নাম-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে নতুন মামলায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।
{{/usCountry}}এই প্রসঙ্গে তিন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৎকালীন পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের নাম-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে নতুন মামলায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।
{{/usCountry}}এদিকে আরজি কর কাণ্ডের মূল তদন্ত ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের হাতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে চলা সেই তদন্তের পাশাপাশি নতুন এফআইআর ঘিরে রাজ্য পুলিশের পৃথক তদন্ত কতদূর এগোয়, এখন সেদিকেই নজর। প্রশাসনের বক্তব্য, মূল তদন্তের বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করেই দেহ সৎকারের সময়কার অনিয়ম, সম্ভাব্য তথ্যপ্রমাণ নষ্ট এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
স্মরণসভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশের শীর্ষ তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। ফলে আরজি কর কাণ্ডে পুরনো প্রশ্নের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন একাধিক তদন্তের দিক। বিশেষ করে দেহ সৎকারের সময় কী ঘটেছিল, কেন নিয়ম বদলানো হয়েছিল এবং কার নির্দেশে তা করা হয়েছিল — এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই নতুন এফআইআরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিআইয়ের তদন্ত ও আদালতের চলমান প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের এই নতুন তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন তথ্য সামনে আনে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।