আরজি করের চিকিৎসক মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাক্রম ঘিরে তদন্তে বৃহস্পতিবার দিনভর বড়সড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। সকালে পুরী থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতারের পর রাতে গ্রেফতার করা হল প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই পরপর দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশের এই পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আরজি করের চিকিৎসকের মৃতদেহ তড়িঘড়ি সৎকার, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে আরজি করের সেই চিকিৎসকের মৃতদেহ তড়িঘড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর দিন গড়াতেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে। রাতে খড়দহ থানার পুলিশ গ্রেফতার করে প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে।
নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাড়ি থেকে অল্প দূরেই সঞ্জীবের বাড়ি। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর পরিচারিকার দাবি ছিল, তিন-চার দিন ধরে সঞ্জীব বাড়িতে নেই। কাজের সূত্রে বাইরে গিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন। পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করে সঞ্জীব নিজেও দাবি করেন, কাজের জন্য তিনি বাইরে রয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই ফিরবেন। পুলিশের সঙ্গে নিজেই যোগাযোগ করে তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে সেই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে পানিহাটির অম্বিকা মুখার্জি রোডের সিআর পার্ক এলাকায় নিজের বাড়ি থেকেই সঞ্জীবকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, তিনি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁকে খড়দহ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}তবে সেই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে পানিহাটির অম্বিকা মুখার্জি রোডের সিআর পার্ক এলাকায় নিজের বাড়ি থেকেই সঞ্জীবকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, তিনি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তাঁকে খড়দহ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
{{/usCountry}}সঞ্জীবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, পরিবারের সদস্যদের বিপথে পরিচালনা করা, তড়িঘড়ি মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা এবং জোর করে বাড়ি থেকে মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ। তদন্তকারীরা তাঁর ভূমিকা এবং ঘটনাটির পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি কী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন।
তবে এই মামলায় আরও এক ব্যক্তির নাম রয়েছে—সোমনাথ দে। নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ফলে তদন্তকারীদের নজরে এখন সোমনাথও।
উল্লেখ্য, গত ৯ অগস্ট আরজি করে খুন হওয়া চিকিৎসকের স্মরণসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত নতুন মামলা শুরু করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতা চিকিৎসককে তিনি ভুলে যাননি এবং এই মামলার বিচারের জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই বক্তব্যের পরই তদন্তে গতি এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রথমে নির্মল ঘোষ, তার পরেই সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়—একই দিনে দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারিকে তদন্তের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য উঠে আসে এবং নিখোঁজ সোমনাথ দে-কে কবে খুঁজে পাওয়া যায়, সেদিকেই নজর সকলের।