সরকার বদলেছে। বদলেছে ক্ষমতার সমীকরণও। কিন্তু আর জি করের অভয়া কাণ্ডে মেয়ের মৃত্যুর সুবিচার এখনও অধরা বলে অভিযোগ নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথের। এ বার কার্যত নিজের দলের সরকারের বিরুদ্ধেই অসন্তোষ প্রকাশ করলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও দুর্নীতির ছবিটা বদলায়নি। তদন্তের অগ্রগতিও আশানুরূপ নয়। তাই মেয়ের মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে ফের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতির একাধিক নথি তাঁর হাতে এসেছে বলেও দাবি করেছেন রত্না। সেই সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চান তিনি।

রবিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভের কথা জানান রত্না দেবনাথ। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত বিচার পাওয়া। তৃণমূল সরকারের আমলে সেই আশা পূরণ হয়নি বলেই রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনে জিতে পানিহাটির বিধায়কও হয়েছেন। কিন্তু নতুন সরকার গঠনের ছ'মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাঁর।
সিবিআইকে নিয়েও প্রশ্ন
আর জি করের তদন্তভার প্রথমে কলকাতা পুলিশের হাতে ছিল। পরে কলকাতা হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজ নিয়েও এবার প্রশ্ন তুলেছেন রত্না। তাঁর দাবি, তাঁরা কখনও সিবিআই তদন্তের আবেদন করেননি। আদালতের নির্দেশেই কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত শুরু করে। কিন্তু এত দিনেও পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
রত্নাদেবীর কথায়, সিবিআই যদি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারে, তা হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, তদন্তের ক্ষেত্রে যে সব বিষয় সামনে আসা প্রয়োজন ছিল, সেগুলি এখনও স্পষ্ট হয়নি। শুধু তদন্ত শুরু করলেই হবে না, ঘটনার পিছনে কারা জড়িত, তাঁদেরও চিহ্নিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। এই ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ঘটনার পিছনে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের ভূমিকা যথাযথ ভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। সেই কারণেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকটি সামনে আনার দাবি জানিয়ে আসছে পরিবার।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। এই ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ঘটনার পিছনে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের ভূমিকা যথাযথ ভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। সেই কারণেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকটি সামনে আনার দাবি জানিয়ে আসছে পরিবার।
{{/usCountry}}রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর অভয়া মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হয়। এই পর্বে গ্রেপ্তার হন নির্মল ঘোষ। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মূল ব্যক্তিদের এখনও আইনের আওতায় আনা যায়নি।
মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতির ফাইল হাতে
এ দিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ সামনে এনেছেন রত্না। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতির একাধিক নথি তাঁর হাতে এসেছে। সেই সব অভিযোগেরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শুধু আর জি কর নয়, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতির অন্য ঘটনাগুলিও সামনে আনতে চান তিনি। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নথি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পানিহাটির বিধায়ক।
এ দিকে, রবিবার পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের চাবি হাতে নিয়ে নতুন পরিচালন কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন রত্না। অভিযোগ, ক্লাবের গেটে তালা ঝুলিয়ে তাঁর বিজয়া সম্মিলনী আটকে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। পরে চাবি নিজের হেফাজতে নিয়ে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হলে তাঁর হাতে তা তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে মেয়ের মৃত্যুর বিচার এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ফের সরব রত্না দেবনাথ। এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও চিকিৎসক মহলের।