RG Kar Rape-Murder Case Update: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক তিলোত্তমা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় নতুন মোড়। মামলার তদন্তে সিবিআইকে নতুন নির্দেশ দিল শিয়ালদহ আদালত। সম্প্রতি তিলোত্তমার বাবার কাছে আসা একটি চিঠিতে ফরেন্সিক নমুনা নষ্ট ও বদলে ফেলার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সেই চিঠির ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শিয়ালদহ আদালতের জিআরও-কে চিঠিটির মূল কপি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে হবে, যাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে পারে।

আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী অমর্ত্য দে জানান, তদন্তের স্বার্থেই আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর কথায়, চিঠিতে যে অভিযোগগুলি করা হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। তাই সিবিআইয়ের পক্ষে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই আদালত মনে করেছে।
জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে নিজেকে রাজ্যের এক প্রাক্তন ফরেন্সিক আধিকারিক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তিলোত্তমার বাবার কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে দাবি করা হয়, মামলার তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত তিলোত্তমার ভিসেরার নমুনা রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবেই নষ্ট করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ফরেন্সিক বিভাগের তিন আধিকারিক নাকি প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশে এই কাজ করেছিলেন।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, তিলোত্তমার লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলি থেকে যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরীক্ষা করে শরীরে কোনও বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না বা তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানার কথা ছিল। কিন্তু সেই নমুনা নষ্ট বা বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাব থেকে কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর সময়ও নমুনা পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে ওই চিঠিতে।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর তিলোত্তমার পরিবার চিঠির কপি সংযুক্ত করে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়, চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে চিঠির মূল কপি সিবিআইয়ের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এখন এই অভিযোগও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের আওতায় আসছে।
{{/usCountry}}এই অভিযোগ সামনে আসার পর তিলোত্তমার পরিবার চিঠির কপি সংযুক্ত করে শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়, চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে চিঠির মূল কপি সিবিআইয়ের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এখন এই অভিযোগও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের আওতায় আসছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এই বহুচর্চিত ধর্ষণ ও খুনের মামলাকে ঘিরে শুরু থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে প্রমাণ নষ্ট, তথ্য গোপন এবং ফরেন্সিক প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার নতুন এই চিঠিকে ঘিরে ভিসেরার নমুনা বদলে ফেলার অভিযোগ ওঠায় মামলাটি আরও নতুন মাত্রা পেল।
তবে চিঠিতে উল্লিখিত অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের নির্দেশের পর সিবিআই অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই তদন্তের ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে অভিযোগগুলির বাস্তবতা এবং মামলার পরবর্তী অগ্রগতি।