...
...
Next Story

Ritabrata Banerjee: ঋতব্রতর দলই ‘আসল’ তৃণমূল! আদালতের নির্দেশ হাতে নিয়ে বিস্ফোরক বিরোধী দলনেতা, বিপর্যয়ের মুখে কালীঘাট

Ritabrata Banerjee: ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস পরিবার ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃ্ত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু, দলের অভ্যন্তরের 'বিদ্রোহে' জেরবার। আর উলটোদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 'আসল' তৃণমূলের ঘর ভরে উঠছে।

Published on: Jul 12, 2026 11:00 PM IST
Advertisement

Ritabrata Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেস কার? তৃণমূলের কত ভাগ? দল-প্রতীক-তহবিল কার? নির্বাচন কমিশনের কাছে দু'পক্ষই জমা দিয়েছে নথি। এসবের মাঝেই, রবিবাসরীয় দুপুরে, কোর্ট পেপার হাতে নিয়ে, বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, তাঁর দলই ‘আসল তৃণমূল।’ গত ২২ জুন দলের বিশেষ অধিবেশন এবং তার ভিত্তিতে গঠিত জাতীয় কর্মসমিতিকে একমাত্র বৈধ আইনি কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত। এই পরিস্থিতিতে বহুচর্চিত আইনি লড়াইয়ে ইতি টানার চেষ্টা করল অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যে দাবি করলেন, তাতে কালীঘাটের পায়ের তলার জমি সরে যেতে পারে মুহূর্তে।

আদালতের নির্দেশ হাতে নিয়ে বিস্ফোরক বিরোধী দলনেতা (HT_PRINT)
আদালতের নির্দেশ হাতে নিয়ে বিস্ফোরক বিরোধী দলনেতা (HT_PRINT)

ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেস পরিবার ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃ্ত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু, দলের অভ্যন্তরের 'বিদ্রোহে' জেরবার। আর উলটোদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 'আসল' তৃণমূলের ঘর ভরে উঠছে। যত সময় যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একা করে একে একে তৃণমূল নেতারা ভিড়ছেন ঋতব্রত শিবিরে। তাতে চূড়ান্ত বিভ্রান্ত হয়েছিলেন সাধারণ কর্মীরা। তাঁরাই আলিপুর আদালতে মামলা করেন। এই আবহে বিরোধী দলনেতা বলেন, কিছু লোক দলের পার্টি অফিস দখলের চেষ্টা করায় এবং অশান্তি বাধানোয় তৃণমূলেরই কিছু কর্মী আলিপুর আদালতে একটি মামলা করেছিলেন। আদালত সম্প্রতি সেই মামলায় রায় দিয়েছে। ঋতব্রতের বক্তব্য, আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যে অধিবেশনে অরূপ রায়কে দলের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে), সেই তৃণমূলই 'আসল তৃণমূল।' তার বাইরে অন্য কেউ যদি নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করে দলের কোনও পার্টি অফিস দখল করার চেষ্টা করেন, তা বেআইনি।

যদিও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। তাদের বক্তব্য, মেট্রোপলিটনের অফিস ‘দখল’ ঋতব্রত-শিবিরই আইন ভেঙেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনি পদক্ষেপ করা হবে, সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা। এই প্রসঙ্গে মমতা-পন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র উপাসনা চৌধুরী বলেন, ‘সে দিন সন্ধে ৬টার পরে তৃণমূল ভবনে (মেট্রোপলিটনের কার্যালয়) যাঁরা তালা মেরে এসেছিলেন, তাঁরা কী আইন মেনে ওটা করেছিল? আমরা কিন্তু ওই তালার উপর আর একটা তালা মারতেই পারতাম। আমরা প্রথম থেকে একটা কথা বলে এসেছি, ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের একটা চুক্তি রয়েছে। সেটা যারা অমান্য করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কি কোনও আইনি পদক্ষেপ হবে না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে দাঁড়ায়, সেখান থেকেই লাইন শুরু হয়।’

আদালতের এই রায়কে হাতিয়ার করে এবার আগামী দিনের রণকৌশল সাজাচ্ছে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায়ের অবিকল প্রতিলিপি ইতিমধ্যেই সাধারণ কর্মীদের হাতে এসেছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য দ্রুত আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন শীর্ষ নেতারা। অন্যদিকে, এই রায়ের পর কালীঘাট তৃণমূল পরবর্তী কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

 
SHARE THIS ARTICLE ON