Baduria Rotten Meat: হাতে ধরা কালো ওয়েস্টবিন, আর তার মধ্যেই পাত্র থেকে পরপর ফেলা হচ্ছে কিলো কিলো পচা মাংস! ফের আট বছর আগের ভাগাড়-কাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া। শুধু বাদুড়িয়াই নয়, উত্তর ২৪ পরগনারই মধ্যমগ্রামের একটি মলের একাধিক ফুড কোর্টে মিলল কেজি কেজি পচা, ছত্রাক (ফাঙ্গাস) ধরা মাংস। খাদ্য দফতর, পুরসভা এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে পাওয়া গেল এমনই চাঞ্চল্যকর সমস্ত তথ্য। এই ঘটনায় রীতিমতো শিউরে উঠছেন এলাকার বাসিন্দারা।

সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ।’ হগ মার্কেট (নিউ মার্কেট) চত্বরে এই কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, ফ্ল্যাট জালিয়াতি, সব্জি-মাছে ক্ষতিকর রঙের প্রয়োগ কিংবা মাপে কারচুপি-যে কোনও ধরনের অসাধু কারবারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে রাজ্য সরকার। তার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অসাধু কর্মকাণ্ডের ঘটনা জানা যাচ্ছে। মঙ্গলবার বাদুড়িয়ায় দিদিমণি রোড এলাকার একটি নামী রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ পচা মুরগি ও খাসির মাংস উদ্ধার করেছে পুলিশ, পুরসভা এবং খাদ্য দফতর। অভিযোগ, হোটেলের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হয় রায় ৪০ কিলো মুরগি ও ছাগলের মাংস। সমস্ত মাংসই পচা। প্রথমে রেস্তরাঁর কর্মচারীরা জানান, ওই মাংস ফেলে দেওয়ার জন্যই এক জায়গায় আলাদা করে রেখে দিয়েছিলেন তাঁরা। যদিও সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় খাদ্য দফতর।
খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা মাংসগুলি বাজেয়াপ্ত করেন। পাশাপাশি, নোটিস দেওয়া হয় হোটেল কর্তৃপক্ষকে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে সঠিক কারণ জানাতে না-পারলে রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে নোটিস জারি করা হয়েছে। খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর এমন কিছুই তাঁরা করতে দেবেন না। অন্যদিকে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক দোষারোপ শুরু হয়েছে। সঞ্জয় ঘোষ নামে ওই এলাকার এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘তৃণমূলের আমল থেকে বেশ কয়েকটি হোটেল এবং রেস্তরাঁ এ ভাবে বেআইনি ব্যবসা করছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ওদের অভ্যাসের পরিবর্তন হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, সব জায়গায় খাদ্যের গুণাগুণ এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তার পরেও এরা এই বেআইনি কাজ করছে। এদের কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’
মধ্যমগ্রামেও অভিযান
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনারই মধ্যমগ্রামের যশোর রোড পার্শ্বস্থ স্টার মলের একাধিকফুড কোর্টেও অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর। সেখানে ছত্রাক ধরা পচা মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারের প্যাকেট এবং পানীয়ের বোতল দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় রাজ্য সরকারের খাদ্যমান পরীক্ষকদের (ফুড সেফটি অফিসার)। অভিযোগ, তাঁদের দেখামাত্র ওই খাদ্যসামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলে দেন রেস্তরাঁর কর্মীরা। মলের তৃতীয় এবং চতুর্থ তলের একের পর এক ফুড কোর্টে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা। কয়েক জন ফুড কোর্ট মালিকের ব্যবসা সংক্রান্ত লাইসেন্স অকুস্থলে দাঁড়িয়েই বাতিল করে দেন খাদ্যমান পরীক্ষকেরা। ওই মলটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যান। খাবার কিনে খান অল্পবয়সি থেকে বয়স্ক, সকলে। ছুটির দিনে প্রত্যেকটি ফুড কোর্টেই ভিড় উপচে পড়ে। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, কোনও ফুড কোর্টে গিয়ে দেখা গিয়েছে লাইসেন্স ঠিক নেই। বেশির ভাগেরই খাবারের মান ভাল নয়। তিন ধরে কাঁচা মাংস ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনারই মধ্যমগ্রামের যশোর রোড পার্শ্বস্থ স্টার মলের একাধিকফুড কোর্টেও অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর। সেখানে ছত্রাক ধরা পচা মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারের প্যাকেট এবং পানীয়ের বোতল দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় রাজ্য সরকারের খাদ্যমান পরীক্ষকদের (ফুড সেফটি অফিসার)। অভিযোগ, তাঁদের দেখামাত্র ওই খাদ্যসামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলে দেন রেস্তরাঁর কর্মীরা। মলের তৃতীয় এবং চতুর্থ তলের একের পর এক ফুড কোর্টে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা। কয়েক জন ফুড কোর্ট মালিকের ব্যবসা সংক্রান্ত লাইসেন্স অকুস্থলে দাঁড়িয়েই বাতিল করে দেন খাদ্যমান পরীক্ষকেরা। ওই মলটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যান। খাবার কিনে খান অল্পবয়সি থেকে বয়স্ক, সকলে। ছুটির দিনে প্রত্যেকটি ফুড কোর্টেই ভিড় উপচে পড়ে। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, কোনও ফুড কোর্টে গিয়ে দেখা গিয়েছে লাইসেন্স ঠিক নেই। বেশির ভাগেরই খাবারের মান ভাল নয়। তিন ধরে কাঁচা মাংস ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}এদিকে, পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে ল্যাংচা হাবেও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একাধিক মিষ্টির দোকান, হোটেল, ধাবা, রেস্তরাঁয় তল্লাশি চলে। খাবার তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ত্রুটি নজরে আসে আধিকারিকদের। কিছু খাদ্যদ্রব্য এবং উপকরণ নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
উসকে গেল ভাগাড়-কাণ্ডের স্মৃতি
পচা মাংস উদ্ধারের ঘটনায় বাদুড়িয়ার নাম এই প্রথম নয়। ২০১৮ সালের এপ্রিলে রাজ্যে তোলপাড় ফেলা ‘ভাগাড়-কাণ্ডের’ও অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বাদুড়িয়া। সেবার এখানকার একটি গোপন আস্তানা থেকেই টন টন ভাগাড়ের মৃত পশুর মাংস উদ্ধার করেছিল পুলিশ। যার জাল ছড়িয়েছিল কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। তদন্তে জানা যায়, মৃত পশুর মাংস কেটে তা রাখা হত এই শহর এবং রাজ্যের বেশ কিছু হিমঘরে। মাংস রাখতে ব্যবহার করা হত অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, লেড সালফেট, ফরম্যালিনের মতো রাসায়নিক। এর পরে ওই মাংস একটি বাক্সে ভরে তার উপরে ইলিশ বা চিংড়ি মাছ রেখে পাচার করা হত একাধিক প্রতিবেশী রাজ্যে। শহরের একাধিক রেস্তরাঁর পাশাপাশি যা যেত বিভিন্ন শপিং মলে ‘ফ্রোজেন’ মাংস হিসেবে। এই কারবার চলছিল টানা ১০ বছর! সেই সময় একাধিক নামী রেস্তোরাঁ বন্ধ করা হয় এবং বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছিল প্রশাসন। পুরোনো সেই আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তার মাঝেই ফের বাদুড়িয়ার এই রেস্তোরাঁয় পচা মাংস উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।