...
...
Next Story

Safe Drive Message by WB Minister: খিদিরপুর, পার্কসার্কাস, রাজাবাজারে বাইক আরোহীদের হেলমেট পরা নিয়ে কড়া বার্তা মন্ত্রীর

প্রতি বছর রাজ্যে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান তিনটি কারণের মধ্যে পথ দুর্ঘটনাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

Published on: Aug 9, 2026, 11:09:52 IST
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে পথ দুর্ঘটনা ক্রমেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। রাজ্যে গড়ে প্রতিদিন পথ দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতি বছর রাজ্যে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান তিনটি কারণের মধ্যে পথ দুর্ঘটনাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শনিবারের অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, রাস্তায় বেরিয়ে কোনওভাবেই নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, এখনও বহু মানুষ মোটরবাইক বা স্কুটার চালানোর সময় হেলমেট পরতে চান না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, এখনও বহু মানুষ মোটরবাইক বা স্কুটার চালানোর সময় হেলমেট পরতে চান না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, এখনও বহু মানুষ মোটরবাইক বা স্কুটার চালানোর সময় হেলমেট পরতে চান না। বিশেষ করে সচেতনতার অভাবের কারণেই বহু ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর প্রাণহানি ঘটে বলে তাঁর দাবি। তাই ধর্মীয় পোশাক বা টুপির অজুহাতে হেলমেট না পরার প্রবণতা বন্ধ করার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা ধর্মীয় টুপি পরেন, তাঁরাও টুপির উপর হেলমেট পরুন। রাজাবাজার, খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস এবং মেটিয়াবুরুজের মতো এলাকার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ নিজের ধর্মীয় রীতি ও বিশ্বাস মেনে চলুন, কিন্তু মোটরবাইক চালানোর সময় নিরাপত্তার নিয়ম অবশ্যই মানতে হবে। তাঁর কথায়, ধর্মীয় টুপি প্রাণ রক্ষা করবে না, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে হেলমেটই মাথাকে সুরক্ষা দিতে পারে।

তবে শুধু হেলমেট নয়, মোটরবাইকে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজাবাজার ও খিদিরপুরের মতো এলাকায় কখনও কখনও একটি স্কুটারে চার থেকে পাঁচজন পর্যন্ত উঠে পড়েন। এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দু’চাকার গাড়িতে দু’জনের বেশি ওঠা উচিত নয়।

তাঁর বক্তব্য, দুর্ঘটনার সময় সামান্য ধাক্কাতেই শিশুটি অভিভাবকের হাত থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যেতে পারে। তাই পরিবারের তিন সদস্যকে একসঙ্গে মোটরবাইকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে বিকল্প পরিবহণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনজন একসঙ্গে মোটরবাইকে ওঠার কোনও প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে গণপরিবহণ ব্যবহার করাই নিরাপদ।

চারচাকার গাড়িতে যাতায়াতকারীদেরও সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ, গাড়িতে উঠলেই সিট বেল্ট বাঁধতে হবে। শুধু চালক বা সামনের আসনে বসা যাত্রীর জন্য নয়, পিছনের আসনে বসা প্রত্যেক যাত্রীরও সিট বেল্ট ব্যবহার করা উচিত। কারণ দুর্ঘটনার সময় পিছনের আসনের যাত্রীদেরও গুরুতর আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের মঞ্চ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত উঠে এসেছে একটি বার্তাই—রাস্তায় নিয়ম মানার ক্ষেত্রে কোনও ছাড় নয়। হেলমেট, সিট বেল্ট, নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী এবং শিশুদের নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে বলে বার্তা দিয়েছেন তিনি।

রাজ্যে প্রতিদিন পথ দুর্ঘটনায় এত মানুষের মৃত্যু হলে শুধু আইন প্রয়োগ করে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব নয়, প্রয়োজন মানুষের আচরণে পরিবর্তন। সেই কারণেই পথ নিরাপত্তা সপ্তাহে সচেতনতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাস্তায় কয়েক মিনিটের অসতর্কতার মূল্য যেন কোনও পরিবারকে সারা জীবন দিতে না হয়। প্রাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছুই নয়—এই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe