মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উঠেছিল ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’ স্লোগান। আর সেই স্লোগান শুনেই প্রকাশ্য মঞ্চে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। শুধু আপত্তি জানানোই নয়, অনুষ্ঠানে এমন স্লোগান ওঠার জন্য দলের তরফে প্রকাশ্যেই ক্ষমা চেয়ে নিলেন তিনি। শমীকের বক্তব্য, উত্তম কুমারকে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জুড়ে দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল না এই অনুষ্ঠানে। বিধায়কের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলীয় স্লোগান দেওয়া একেবারেই অনুচিত।

রবিবার দমদমে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। উত্তম কুমারের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন ‘বিজেপি জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। সেই ঘটনা নজরে আসতেই আপত্তি জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
অনুষ্ঠান চলাকালীন শমীক বলেন, ‘উত্তম কুমারকে বিজেপি বানাতে আসিনি।’ তাঁর বক্তব্য, অনুষ্ঠানটি বিধায়কের উদ্যোগে আয়োজিত। কোনও বিধায়ক কোনও নির্দিষ্ট দলের কর্মী-সমর্থকদের জন্য নন, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার সকল মানুষের প্রতিনিধি। তাঁর বিরুদ্ধে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরও তিনি বিধায়ক। তাই এমন একটি সর্বজনীন অনুষ্ঠানে দলীয় স্লোগান দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে কার্যত দলের কর্মীদের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা দেন শমীক। মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রচারের বদলে তাঁর শিল্পীসত্তা এবং বাঙালি সংস্কৃতিতে অবদানকেই সামনে রাখা উচিত বলে বোঝাতে চান তিনি। স্লোগান ওঠার ঘটনায় দলের ভাবমূর্তির কথা মাথায় রেখে সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষমাও চান বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে চলতি সপ্তাহে কলকাতা ও রাজ্যজুড়ে একাধিক কর্মসূচি হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগেও ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় চলচ্চিত্র প্রদর্শন, আলোচনা, প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই আবহে দমদমের অনুষ্ঠানেও মহানায়ককে ঘিরে রাজনৈতিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়।
{{/usCountry}}উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে চলতি সপ্তাহে কলকাতা ও রাজ্যজুড়ে একাধিক কর্মসূচি হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগেও ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় চলচ্চিত্র প্রদর্শন, আলোচনা, প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই আবহে দমদমের অনুষ্ঠানেও মহানায়ককে ঘিরে রাজনৈতিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়।
{{/usCountry}}এদিকে, এদিন বিধাননগরে আয়োজিত একটি রক্তদান শিবিরেও উপস্থিত ছিলেন শমীক। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুর্গাপুজোর পরিবর্তে ‘শারদীয়া উৎসব’ শব্দবন্ধ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে আগের সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর দাবি, সাংস্কৃতিক পরিসরে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের চিন্তাভাবনা চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করেই বাংলার মানুষ বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন।
বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে গ্রাম ও শহরের সংস্কৃতির পার্থক্যের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। পাশাপাশি মা দুর্গার বিসর্জন নদীর পরিবর্তে পুকুরে করার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শমীক। উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় ঢাক বাজানো নিয়েও অতীতে নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এদিনের অনুষ্ঠানে শমীকের আর একটি বার্তাও রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ‘হঠাৎ বিজেপি’-দের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শুধু বিজেপির পতাকা নিয়ে ঘুরলেই আসন্ন পুরভোটে কাউন্সিলরের টিকিট পাওয়া যাবে না। দলের টিকিট ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যম নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সংগঠনে ব্যক্তি নয়, দলই আগে এবং দলের লক্ষ্য একটাই—জয়।
ফলে মহানায়ককে স্মরণ করার মঞ্চে দলীয় স্লোগান নিয়ে আপত্তি জানানো থেকে শুরু করে পুরভোটের টিকিট নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করা—একই দিনে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে দলের ভিতরের শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক অবস্থানের বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠল।