...
...
Next Story

Samik on Municipal Election: গেরুয়া পতাকা হাতে নিলেই মিলবে না পুরভোটের টিকিট, ‘স্বঘোষিত নেতা’দের কড়া বার্তা শমীকের

শনিবার বারাসতের রবীন্দ্রভবনে বিজেপির শিক্ষক সেলের শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সম্প্রতি দলে আসা কয়েকজন ‘স্বঘোষিত নেতা’-কে নিশানা করেন শমীক। তাঁর মন্তব্যে দলের অন্দরে পুরভোটের প্রার্থী বাছাই ঘিরে নতুন বার্তা পৌঁছে গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Published on: Sep 5, 2026, 22:15:24 IST
Advertisement

পুরভোটের আগে দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুধু গেরুয়া পতাকা হাতে নিলেই যে ভবিষ্যতে বিজেপির প্রার্থী হওয়া যাবে না, তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। শনিবার বারাসতের রবীন্দ্রভবনে বিজেপির শিক্ষক সেলের শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সম্প্রতি দলে আসা কয়েকজন ‘স্বঘোষিত নেতা’-কে নিশানা করেন শমীক। তাঁর মন্তব্যে দলের অন্দরে পুরভোটের প্রার্থী বাছাই ঘিরে নতুন বার্তা পৌঁছে গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

New Delhi, Aug 06 (ANI): BJP MP Samik Bhattacharya speaks in the Rajya Sabha during the Monsoon session of Parliament, in New Delhi on Thursday. (Sansad TV/ANI Video Grab) (Sansad TV)
New Delhi, Aug 06 (ANI): BJP MP Samik Bhattacharya speaks in the Rajya Sabha during the Monsoon session of Parliament, in New Delhi on Thursday. (Sansad TV/ANI Video Grab) (Sansad TV)

সম্প্রতি তৃণমূল-সহ বিভিন্ন দল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কিছু নেতাকে নিয়ে দলের পুরনো কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সেই আবহেই শমীক বলেন, কিছু মানুষ আচমকাই বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েছেন, গেরুয়া আবির মেখেছেন এবং নিজেদের এমনভাবে তুলে ধরছেন যেন তাঁরা ভবিষ্যতের প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ, আগে যে দলে ছিলেন, সেখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে পাথর, ইট ছোড়াছুড়ি থেকে শুরু করে বাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনাতেও তাঁরা জড়িত ছিলেন।

শমীকের স্পষ্ট বক্তব্য, এই ধরনের ‘স্বঘোষিত নেতা’রা আসলে অপ্রাসঙ্গিক। কারণ, তাঁর দাবি, মানুষ ইতিমধ্যেই তাঁদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। ফলে শুধুমাত্র দলবদল করলেই রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় না। দলের পুরনো কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থাও অর্জন করতে হবে—এমন বার্তাই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

পুরভোটের প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের আরেক শীর্ষ নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গেও শমীকের বক্তব্যের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। বিজেপির সাংসদ তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এর আগে বলেছিলেন, ‘জিততে পারলেই টিকিট মিলবে’। সেখানে শমীক এদিন প্রার্থী হওয়ার আগে দলের প্রতি আনুগত্য, গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তির উপর গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন।

পুজো কমিটি দখল কিংবা বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কোনও পুজো বন্ধ করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলেও দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেন শমীক। একইসঙ্গে পুরনো নেতা-কর্মীদের উদ্দেশেও তাঁর বার্তা, তোলাবাজির সংস্কৃতি কোনওভাবেই চলতে দেওয়া হবে না। বিজেপিতে ক্ষমতায় এলেও পুরনো ধাঁচের দখল বা বেআইনি আদায়ের রাজনীতি মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

এদিন তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়েও কটাক্ষ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর দিকে ডিম ছুড়ছে, কারণ ভাগে কম পাওয়া নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ। পুলিশের কাছে মেটাল ডিটেক্টর থাকলেও ‘ডিম ডিটেক্টর’ নেই—এমন রসিকতাও করেন তিনি। তবে একইসঙ্গে বিজেপিকে এই ধরনের সংস্কৃতির বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এনসিপিআই নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে শমীক জানান, তারা এনডিএ-র শরিক এবং জোটে তাদের স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দলই নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সবশেষে আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে বড় জয়ের দাবি করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর প্রত্যয়, দুই কর্পোরেশনেই বিজেপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বোর্ড গঠন করবে। পুরভোটের আগে তাঁর এদিনের বক্তব্যে একদিকে যেমন দলবদলু নেতাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা, তেমনই পুরনো কর্মীদেরও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe