দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের হয়ে পুরভোটে লড়ছেন এবং জিতছেন। বর্তমানে কলকাতা পুরনিগমে কংগ্রেসের একমাত্র সদস্য ছিলেন তিনিই। এহেন সন্তোষ পাঠক এবার কংগ্রেসের হাত ছেড়ে তুলে নিলেন পদ্মফুল। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে গতকাল বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন সন্তোষ পাঠক। তাঁকে চৌরঙ্গী আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী করতে পারে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এদিকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সন্তোষ পাঠক নিজেও জানিয়েছেন, দল তাঁকে প্রার্থী করলে তিনি লড়াই করতে প্রস্তুত। তবে তাঁর কথায়, 'শেষ সিদ্ধান্ত নেবে দল'। এদিকে সন্তোষকে যদি চৌরঙ্গী থেকে টিকিট দেওয়া হয়, তাহলে তাঁর প্রতিপক্ষ হবে তৃণমূলের নয়না বন্দ্যোপাধ্যয়া। রাজ্য বিজেপির বিধাননগর দফতরে শমীক উত্তরীয় পরিয়ে এবং পতাকা হাতে দিয়ে সন্তোষকে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাগত জানান। সন্তোষের বিজেপিতে যোগদানের সময় সেখানে শমীক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং দুই কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেব ও অমিত মালব্য।

বিজেপিতে যোগদান করে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান সন্তোষ পাঠক। যদিও নিজের পুরনো দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কোনও কথা তিনি বলেননি। বরং অধীর চৌধুরীকে ‘ভাল নেতা’ বলে আখ্যা দেন সন্তোষ। এদিকে সন্তোষ গতকাল অভিযোগ করেন, তিনি যে ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, সেখানে পাঁচজন আইপিএস আধিকারিকের নেতৃত্বে তৃণমূল বুথে ঢুকে ছাপ্পা ভোট দিয়েছিল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। তিনি বলেন, 'যে ভাবে তৃণমূল ভোট করায়, এ বার আমরা তা হতে দেব না।' সঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'মোদীজির নেতৃত্বে এই পিসি-ভাইপোর সরকার এ বার বিদায় হয়ে যাবে।'
কলকাতা পুরনিগমে ৪ বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সন্তোষ পাঠক। সব মিলিয়ে দুই দশক ধরে কাউন্সিলর আছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটেই চৌরঙ্গী আসন থেকে লড়েছিলেন সন্তোষ। ২০০৫ সালে তিনি প্রথমবাপ কাউন্সিলর হয়েছিলেন। তখন বাম জমানা। এরপর তৃণমূলের সময়তেও কংগ্রেসে থেকেই নিজের গড় রক্ষা করে চলেছেন সন্তোষ পাঠক। এদিকে সন্তোষ পাঠকের দলত্যাগ নিয়ে কংগ্রেসের সুমন রায়চৌধুরী জানান, সন্তোষ পাঠকের কংগ্রেস ছেড়ে চলে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক৷ কেন তিনি বিজেপিতে গেলেন, সেই বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস কিছুই জানে না।