দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা এবং তাঁর ছেলেকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাতলা নদীর চর ভরাট করে সরকারি জমি দখল করা হয়েছে এবং সেই জমির উপর বেআইনিভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল একটি ক্যাফে। আর এবার অভিযোগ, ক্যানিং পূর্বে সরকারি জমি ও সরকারি দফতরের চত্বরে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক পার্টি অফিস তৈরি করা হয়েছে বেআইনি ভাবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্যানিং-২ পঞ্চায়েত সমিতির চত্বরেই পাশাপাশি দুটি পার্টি অফিস, জীবনতলা, মৌখালি, কালিকাতলা, ঝোড়োর মোড়ের পার্টি অফিসগুলি বেআইনি ভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর আগে জানা গিয়েছিল, ক্যানিংয়ের মৌখালী ব্রিজ সংলগ্ন মাতলা নদীর তীরে তৈরি হয়েছে বড়সড় একটি ক্যাফে। অভিযোগ, বিঘার পর বিঘা নদীর চর মাটি ফেলে ভরাট করে ওই নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু ক্যাফেই নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ সরকারি জমিও ভরাট করে পরবর্তীতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, কয়েকশো বিঘা নদীর চর দখল করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই ক্যাফের মালিক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লা। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বাবার রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই এই ব্যবসা গড়ে তোলা হয়েছে। এর আগেও ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধে এক ডেলিভারি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। কারণ যে এলাকায় এই নির্মাণ হয়েছে, তার মাত্র কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে এসডিও এবং এসডিপিও অফিস। এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের কাছাকাছি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদী ভরাট এবং নির্মাণকাজ চললেও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব সমর্থন ছাড়া এত বড় আকারে সরকারি জমি দখল সম্ভব নয়।
{{/usCountry}}সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। কারণ যে এলাকায় এই নির্মাণ হয়েছে, তার মাত্র কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে এসডিও এবং এসডিপিও অফিস। এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরের কাছাকাছি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদী ভরাট এবং নির্মাণকাজ চললেও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরব সমর্থন ছাড়া এত বড় আকারে সরকারি জমি দখল সম্ভব নয়।
{{/usCountry}}এদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের মদতেই সরকারি জমি দখল করে একাধিক ব্যবসা ও নির্মাণকাজ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলেরই নেতা আরাবুল ইসলাম প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানিয়েছেন, সরকারি জমি যাতে বেআইনিভাবে হস্তান্তর না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই শওকত মোল্লা নিজেকে “স্বেচ্ছা নির্বাসনে” যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন এবং প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে নদীর চর দখল ও সরকারি জমি ভরাটের অভিযোগ সামনে আসায় ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন প্রশাসন এই অভিযোগের তদন্তে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয়দের।