শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা তৈরি করাই কাল হল। পরীক্ষার মাঝে হঠাৎ ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ। কেঁপে উঠল স্কুল চত্বর। একটুর জন্য প্রাণে বাঁচল ২০০ জন পরীক্ষার্থী। সোমবার নির্বিঘ্নেই চলছিল মাধ্যমিকের প্রথম দিনের পরীক্ষা। কিন্তু তার মাঝেই ঘটল আচমকা ছন্দ পতন।

সোমবার কোচবিহারের তুফানগঞ্জের এক নম্বর ব্লকের নাককাটিগাছ হাইস্কুলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। জানা গেছে, এদিন সকাল ১০টা থেকে স্কুলে প্রবেশ করতে শুরু করেছিল মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। স্বাভাবিক ভাবেই টেনশনে ছিল তারা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর মিনিট ১৫ আগে তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে গোটা স্কুল। হুলস্থুল পড়ে যায় এলাকায়। চিন্তায় পড়ে যান অভিভাবকেরা। তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায় অন্তত ২০০ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। কীভাবে এই ঘটনা? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা তৈরির সময় রান্নার সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়। তখন পরীক্ষাকেন্দ্রে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা পৌঁছে গিয়েছিল। বিষয়টি চোখে পড়তেই কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ার ছুটে যান। জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি স্কুলের মাঠে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঠিক তখনই বিস্ফোরণ হয়।
তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে স্কুলচত্বর-সহ গোটা এলাকা। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারাও জড়ো হয়ে যান। স্কুলের বাইরে অপেক্ষারত অভিভাবকরাও দৌড়ে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যে শিক্ষকদের আশ্বাসে স্কুল পড়ুয়ারা শান্ত হয়। আবার পরীক্ষা দেওয়া শুরু করে তারা। অন্যদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দমকলবাহিনী। তারা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে এই ঘটনার খবর পৌঁছয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদে। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন আধিকারিকরা। তুফানগঞ্জের এসডিপিও শ্রী কন্নেধারা মনোজ কুমার বলেন, ‘স্কুল চত্বরে একটি ক্যান্টিন রয়েছে। সেই ক্যান্টিনের একটি গ্যাস সিলিন্ডারে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। সেখানে কর্তব্যরত দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার সিলিন্ডারটি স্কুলের মাঠে এনে ফেলে দেন। তারপর মাঠেই সিলিন্ডারটি ফেটে যায়।’ ঝুঁকি নিয়ে যিনি জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি বাইরে বার করে নিয়ে যান, সেই সিভিক ভলান্টিয়ার রাজিবুল হক বলেন, ‘আগুন লাগার পরেই মাস্টারমশাই আমাকে ডেকে পাঠান। আমি গিয়ে আগুন নেবানোর অনেক চেষ্টা করি। ভেজা কাপড় জড়িয়ে দিলেও আগুন জ্বলছিল। তারপর একটি বাঁশের সাহায্যে সিলিন্ডারটি মাঠের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে রেখে দিই। তার মিনিট পাঁচেক পরেই তীব্র বিস্ফোরণে সেটি ফেটে যায়।’
বলাভূত হাই স্কুল, বিদ্যাসাগর হাই স্কুল এবং কৃষ্ণপুর হাই স্কুলের মোট ২১০ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তুফানগঞ্জ নাককাটি গাছ হাই স্কুলে তাদের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলাতিতে এমন দুর্ঘটনা হয়েছে। বড় ক্ষতি হতে পারত। বিস্ফোরণের জেরে সিলিন্ডারের ছোট ছোট টুকরো বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধানশিক্ষক দুলাল বসাক বলেন, ‘আসলে ছোট গ্যাস সিলিন্ডারে পরীক্ষার্থীদের জন্য গরম জল এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা করা হচ্ছিল। হঠাৎ সিলিন্ডারে আগুন লেগে যায়। তবে এই ঘটনায় পরীক্ষায় কোনও প্রভাব পড়েনি। সঠিক সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।’
{{/usCountry}}বলাভূত হাই স্কুল, বিদ্যাসাগর হাই স্কুল এবং কৃষ্ণপুর হাই স্কুলের মোট ২১০ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তুফানগঞ্জ নাককাটি গাছ হাই স্কুলে তাদের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলাতিতে এমন দুর্ঘটনা হয়েছে। বড় ক্ষতি হতে পারত। বিস্ফোরণের জেরে সিলিন্ডারের ছোট ছোট টুকরো বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধানশিক্ষক দুলাল বসাক বলেন, ‘আসলে ছোট গ্যাস সিলিন্ডারে পরীক্ষার্থীদের জন্য গরম জল এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য চা করা হচ্ছিল। হঠাৎ সিলিন্ডারে আগুন লেগে যায়। তবে এই ঘটনায় পরীক্ষায় কোনও প্রভাব পড়েনি। সঠিক সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে।’
{{/usCountry}}