Sevashray Irregularity: 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল। ডায়মন্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর থানার পর এবার পারুলিয়া কোস্টাল থানাতেও অভিযোগ দায়ের করা হল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) 'সেবাশ্রয়' স্বাস্থ্যশিবিরে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহার এবং সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই নয়, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, জাহাঙ্গীর খান, সামিম আহমেদ-সহ তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক আধিকারিকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি নেতার দাবি, গোটা প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে এবং সেই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত তথ্য সামনে চলে আসবে।
অভিজিৎ দাসের অভিযোগের অন্যতম ভিত্তি গত ১০ জুন সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। তাঁর দাবি, ওই দিন মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া ওষুধের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও শুধুমাত্র ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, কিন্তু কোনও মামলা রুজু করা হয়নি।
বিজেপি নেতার দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। তাঁর অভিযোগ, 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পে ব্যবহৃত ওষুধের গুণমান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এই ওষুধ কোথা থেকে এল, কেন মাটির নীচে পুঁতে রাখা হয়েছিল এবং কার নির্দেশে তা করা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনার সঙ্গে 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির যোগ রয়েছে।
এর আগেও একই প্রকল্পকে ঘিরে ডায়মন্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগগুলিতেও অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এবার নতুন করে পারুলিয়া কোস্টাল থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও জোরালো হয়েছে।
{{/usCountry}}এর আগেও একই প্রকল্পকে ঘিরে ডায়মন্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগগুলিতেও অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এবার নতুন করে পারুলিয়া কোস্টাল থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও জোরালো হয়েছে।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সই জাল সংক্রান্ত অভিযোগ এবং ডিজে মন্তব্য মামলাও তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রেখেছে। সেই আবহে 'সেবাশ্রয়' নিয়ে ধারাবাহিক অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত করবে। প্রয়োজনে জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের সহযোগিতা নেওয়া হবে। যদি কোনও অপরাধ ঘটে থাকে, তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
এদিকে 'সেবাশ্রয়' প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার পর স্বাস্থ্য দফতরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ওষুধের গুণমান, সরবরাহ প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেন—সব দিকই খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।