Shantanu Sinha Biswas Latest Update: জমি দখল ও সোনা পাপ্পু মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গ্রেপ্তারের প্রায় দু’মাস পর আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, কালীঘাট থানার ওসি থাকাকালীন শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের চেম্বারই নাকি হয়ে উঠেছিল বিভিন্ন ‘বিজনেস ডিল’-এর কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও অসামান্য ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে চার্জশিটে।

ইডির চার্জশিট অনুযায়ী, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস যখন হেয়ার স্ট্রিট থানার ওসি ছিলেন, তখন তিনি মূলত পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু কালীঘাট থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর আচরণ ও কার্যকলাপে আমূল পরিবর্তন আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা পুলিশের এক ইন্সপেক্টরের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, কালীঘাট থানায় শান্তনুর চেম্বার ছিল বহিরাগত ব্যবসায়ীদের নিয়মিত বৈঠকের জায়গা। অভিযোগ, থানার অধস্তন পুলিশকর্মীদেরও সেই ঘরে প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইডির দাবি, ওই ইন্সপেক্টর জানিয়েছেন, পুলিশকর্মীদের তুলনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং তাঁর মতো একাধিক ব্যবসায়ীরই শান্তনুর কাছে বেশি গুরুত্ব ছিল। থানার মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলেও চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, শুধু ব্যবসায়িক যোগাযোগই নয়, কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তার করেছিলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, পুলিশকর্মীদের বদলির তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এমনকি ওয়েলফেয়ার কমিটি এবং পুলিশের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কার্যকলাপেও তাঁর একচ্ছত্র প্রভাব ছিল বলে ইডির অভিযোগ।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন থানা থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহের একটি পদ্ধতি চালু করেছিলেন প্রাক্তন এই পুলিশকর্তা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এক সাব-ইন্সপেক্টরের বয়ানে উঠে এসেছে যে, পরিকল্পনা করেই বিভিন্ন থানায় ‘সুভেনির’ পাঠানো হত। সেই সুভেনিরের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করা হত। এই অর্থ কখনও নগদে, আবার কখনও চেকের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ইডির চার্জশিটে।
{{/usCountry}}চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন থানা থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহের একটি পদ্ধতি চালু করেছিলেন প্রাক্তন এই পুলিশকর্তা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এক সাব-ইন্সপেক্টরের বয়ানে উঠে এসেছে যে, পরিকল্পনা করেই বিভিন্ন থানায় ‘সুভেনির’ পাঠানো হত। সেই সুভেনিরের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করা হত। এই অর্থ কখনও নগদে, আবার কখনও চেকের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ইডির চার্জশিটে।
{{/usCountry}}ইডি সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে কলকাতা পুলিশের একাধিক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের বয়ান এবং উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতেই চার্জশিটে এই অভিযোগগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেন, প্রভাব খাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ— সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চার্জশিটে উল্লিখিত এই সমস্ত অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং এখনও সেগুলি আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শান্তনু সিনহা বিশ্বাস বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকেও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জমি দখল ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত এই মামলায় তদন্ত এখনও চলছে। ইডির দাবি, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত চার্জশিটও জমা দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে গোটা বিষয়টির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।