...
...
Next Story

Shantanu Sinha Biswas Latest Update: কালীঘাট থানার ওসির ঘরেই হত ‘বিজনেস ডিল’! শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নামে চার্জশিট ইডির

ইডির চার্জশিট অনুযায়ী, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস যখন হেয়ার স্ট্রিট থানার ওসি ছিলেন, তখন তিনি মূলত পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু কালীঘাট থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর আচরণে আমূল পরিবর্তন আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

Published on: Jul 16, 2026, 19:37:31 IST
Advertisement

Shantanu Sinha Biswas Latest Update: জমি দখল ও সোনা পাপ্পু মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গ্রেপ্তারের প্রায় দু’মাস পর আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, কালীঘাট থানার ওসি থাকাকালীন শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের চেম্বারই নাকি হয়ে উঠেছিল বিভিন্ন ‘বিজনেস ডিল’-এর কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও অসামান্য ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে চার্জশিটে।

শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট
শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট

ইডির চার্জশিট অনুযায়ী, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস যখন হেয়ার স্ট্রিট থানার ওসি ছিলেন, তখন তিনি মূলত পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু কালীঘাট থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর আচরণ ও কার্যকলাপে আমূল পরিবর্তন আসে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা পুলিশের এক ইন্সপেক্টরের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, কালীঘাট থানায় শান্তনুর চেম্বার ছিল বহিরাগত ব্যবসায়ীদের নিয়মিত বৈঠকের জায়গা। অভিযোগ, থানার অধস্তন পুলিশকর্মীদেরও সেই ঘরে প্রবেশে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইডির দাবি, ওই ইন্সপেক্টর জানিয়েছেন, পুলিশকর্মীদের তুলনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং তাঁর মতো একাধিক ব্যবসায়ীরই শান্তনুর কাছে বেশি গুরুত্ব ছিল। থানার মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলেও চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, শুধু ব্যবসায়িক যোগাযোগই নয়, কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব বিস্তার করেছিলেন শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, পুলিশকর্মীদের বদলির তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এমনকি ওয়েলফেয়ার কমিটি এবং পুলিশের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কার্যকলাপেও তাঁর একচ্ছত্র প্রভাব ছিল বলে ইডির অভিযোগ।

ইডি সূত্রে খবর, গত কয়েক দিনে কলকাতা পুলিশের একাধিক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের বয়ান এবং উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতেই চার্জশিটে এই অভিযোগগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেন, প্রভাব খাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ— সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চার্জশিটে উল্লিখিত এই সমস্ত অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং এখনও সেগুলি আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শান্তনু সিনহা বিশ্বাস বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকেও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জমি দখল ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত এই মামলায় তদন্ত এখনও চলছে। ইডির দাবি, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত চার্জশিটও জমা দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে গোটা বিষয়টির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe