টেট উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত বাধ্যতামূলক করবেন না। শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার আগে চাকরি পাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের (প্রাথমিক এবং উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষকদের) ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে টেট উত্তীর্ণ হওয়ার নিয়ম প্রত্যাহার করা হোক। এমনই দাবি তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে চিঠি দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে। আগামী শনিবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠান আছে। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তার আগে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হল।
কোন কোন দাবি তোলা হয়েছে?

১) শিক্ষার অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার আগে নিয়োগ হওয়া শিক্ষকদের নিয়ে সরকারের কী অবস্থান, তা জনসমক্ষে জানানো হোক।
২) এই ধরনের শিক্ষকদের যাতে বাধ্যতামূলকভাবে টেট পরীক্ষার আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, সেজন্য নির্দিষ্টভাবে আইনি বা কার্যনির্বাহী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৩) তাঁদের চাকরির সুরক্ষা এবং মর্যাদা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত করা।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের নেতা কী বললেন?
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেছেন, ‘আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতবর্ষের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। তিনি একটি শিক্ষা সংক্রান্ত সেমিনারে থাকবেন। তাঁর আসার আগেই আমরা টেট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁর কাছে স্পষ্ট অবস্থান এবং এর প্রতিকারের কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে তার উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠালাম। আশা করি যে তিনি এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে এর প্রতিকারে যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করবেন।’
সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দিয়েছিল?
আর শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে সেই আর্জি জানানো হয়েছে লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবের পরে। গত সেপ্টেম্বরে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে বাধ্যতামূলকভাবে টেট পাশ করতে হবে। যে শিক্ষকরা টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন না, তাঁরা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন বা টার্মিনাল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে যে শিক্ষকদের অবসর গ্রহণ করতে আর পাঁচ বছর বাকি আছে, তাঁদের ছাড় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তাঁরা টেট উত্তীর্ণ না হলেও চাকরি করে অবসর নিতে পারবেন।
{{/usCountry}}আর শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের তরফে সেই আর্জি জানানো হয়েছে লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবের পরে। গত সেপ্টেম্বরে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে বাধ্যতামূলকভাবে টেট পাশ করতে হবে। যে শিক্ষকরা টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন না, তাঁরা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন বা টার্মিনাল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে যে শিক্ষকদের অবসর গ্রহণ করতে আর পাঁচ বছর বাকি আছে, তাঁদের ছাড় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তাঁরা টেট উত্তীর্ণ না হলেও চাকরি করে অবসর নিতে পারবেন।
{{/usCountry}}সেই রেশ ধরে লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে শিক্ষকদের বাধ্যতামূলকভাবে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। তারপর শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাস্তবে দেখা যায়, রাজ্যে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন, যাঁদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শিক্ষার অধিকার আইনের আগে প্রকাশিত হলেও নিয়োগ কার্যকর হয়েছে বহু বছর পরে। এটি প্রশাসনিক এবং আইনি জটিলতার ফল, যা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কারণে হয়নি। সুতরাং এই শ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নন-টেট হিসেবে চিহ্নিত করা সম্পূর্ণরূপে অন্যায্য ও অসংগত।’