...
...
Next Story

Siliguri Mayor Resignation Speculation: মেয়র পদ ছাড়তে পারেন গৌতম দেব, শিলিগুড়িও কি হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূলের?

রিপোর্টের দাবি, শিলিগুড়ির মেয়র ও বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার প্রশাসনের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

Published on: Jun 19, 2026, 10:49:26 IST
Advertisement

উত্তরবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলিতে দলের কার্যত অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে। তার উপর বিদ্রোহী শিবিরে একাধিক জনপ্রতিনিধির যোগদান এবং সাংসদদের বিক্ষুব্ধ অবস্থান জোড়াফুল শিবিরকে আরও চাপে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের শেষ শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হচ্ছিল শিলিগুড়ি পুরনিগমকে। কিন্তু এবার সেই দুর্গও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিলিগুড়ির মেয়র ও বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি রিপোর্টে
শিলিগুড়ির মেয়র ও বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি রিপোর্টে

সূত্রের খবর, শিলিগুড়ির মেয়র ও বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার প্রশাসনের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

সংগঠনে বেশি সময়, নাকি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস?

বুধবারই গৌতম দেবকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা (সমতল) সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বের বদলে সংগঠনকে চাঙ্গা করার কাজে আরও বেশি সময় দিন। উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় তাঁকে সামনে রেখে নতুন করে সংগঠন গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে তাঁর মেয়র পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ এখনও এক বছরেরও বেশি সময় বাকি। এমন অবস্থায় মেয়রের পদত্যাগ নিছক সাংগঠনিক দায়িত্বের জন্য, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়েই আলোচনা শুরু হয়েছে।

মেয়র পারিষদদের মধ্যে মতভেদ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গৌতম দেবের পদত্যাগের পর নতুন কাউকে মেয়র করে পুরবোর্ড টিকিয়ে রাখা তৃণমূলের পক্ষে সহজ হবে না। বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন নেতৃত্বের অধীনে বোর্ড ধরে রাখার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ি পুরনিগমও তৃণমূলের হাতছাড়া হয়, তাহলে উত্তরবঙ্গে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক উপস্থিতি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইতিমধ্যেই দার্জিলিং পাহাড় থেকে ডুয়ার্স পর্যন্ত একাধিক এলাকায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। শিলিগুড়ির মতো কৌশলগত শহর হারানো সেই সংকটকে আরও গভীর করবে।

উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের উত্থান-পতনের সাক্ষী গৌতম দেব

উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গৌতম দেব দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি পর্যটনমন্ত্রী হন। উত্তরবঙ্গে দলের মুখ হিসেবেই তাঁকে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতার মুখও দেখতে হয়েছে তাঁকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও জয় অধরা থেকে যায়।

তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০২২ সালের শিলিগুড়ি পুরনিগম নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই ঐতিহাসিক জয় পায় তৃণমূল। দীর্ঘদিনের বাম-প্রভাবিত এই পুরনিগমে জোড়াফুলের বোর্ড গঠন উত্তরবঙ্গে দলের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়েছিল। চার বছর পর সেই পুরনিগমই যদি হাতছাড়া হয়, তবে তা উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের জন্য এক বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবেই বিবেচিত হবে।

উত্তরবঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে তৃণমূল

একদিকে বিদ্রোহী নেতাদের উত্থান, অন্যদিকে নির্বাচনী বিপর্যয়— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গে নিজেদের পুনর্গঠনের লড়াই শুরু করেছে তৃণমূল। সেই লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে এখন সামনে আনা হচ্ছে গৌতম দেবকে। কিন্তু তিনি যখন সংগঠন গঠনের দায়িত্ব নিচ্ছেন, ঠিক তখনই শিলিগুড়ি পুরনিগমের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, উত্তরবঙ্গে হারানো জমি কি ফের ফিরে পাবে তৃণমূল? নাকি শিলিগুড়ির দুর্গ হারিয়ে জোড়াফুল শিবিরের সংকট আরও গভীর হবে? আগামী কয়েকদিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহই তার উত্তর দেবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe